আবু সাইদ শওকত আলী,বিশেষ প্রতিনিধি:-
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা সাতক্ষীরা। ভৌগোলিক অবস্থান, প্রাকৃতিক সম্পদ, অর্থনৈতিক অবদান ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ
হলেও এই জেলাটি এখনও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। অথচ এখান থেকেই সরকার প্রতিবছর বিপুল রাজস্ব আয় করছে। সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে
সাতক্ষীরাকে অবমূল্যায়ন করে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি স্থানীয় জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।
সাংবাদিকতার মূলনীতি হলো বস্তুনিষ্ঠতা; অথচ
সাতক্ষীরার অর্থনৈতিক ও কৌশলগত গুরুত্ব উপেক্ষা করে একপাক্ষিক চিত্র তুলে ধরা সাংবাদিকতার মান ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
বাংলাদেশের চিংড়ি শিল্পে সাতক্ষীরা শীর্ষ অবস্থানে। এখানকার বাগদা ও গলদা চিংড়ি আন্তর্জাতিক
বাজারে ‘হোয়াইট গোল্ড’ নামে পরিচিত। এ ছাড়া সুন্দরবন থেকে প্রাপ্ত গোলপাতা, কাঠ, কাঁকড়া, মধু ও মাছ জাতীয় অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান
রাখছে। কৃষিজ উৎপাদনে আম, ধান, সবজি ও অন্যান্য ফসল দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা রাখছে। সুন্দরবন পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন এবং ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান—
সাতক্ষীরার দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত। আকাশলীনা, কৈখালী সীমান্ত, ক্যারাম মুরা ভিলেজসহ নানা
পর্যটনকেন্দ্র দেশি-বিদেশি ভ্রমণপিপাসুদের আকর্ষণ করে। একই সঙ্গে নদী, মোহনা, পাখি পর্যবেক্ষণ
কেন্দ্র প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে আরও সমৃদ্ধ করেছে যতই অর্থনৈতিক ও ভৌগোলিক গুরুত্ব থাকুক, সাতক্ষীরার অবকাঠামো উন্নয়ন এখনও অনেক
পিছিয়ে। সড়ক যোগাযোগ, স্বাস্থ্যসেবা, উচ্চশিক্ষা ও শিল্পায়নের ঘাটতি এখানে স্পষ্ট। জলবায়ু পরিবর্তনের
অভিঘাত—ঘূর্ণিঝড়, লবণাক্ততা ও নদীভাঙন মানুষের জীবন-জীবিকা প্রতিনিয়ত হুমকির মুখে ফেলছে।
সরকার যে পরিমাণ রাজস্ব সাতক্ষীরা থেকে আহরণ করে, তার তুলনায় বিনিয়োগ নগণ্য।
এই বৈষম্য স্থানীয় জনগণের মধ্যে হতাশা তৈরি করছে।সাতক্ষীরা শুধু একটি সীমান্তবর্তী জেলা নয়, বরং জাতীয় অর্থনীতির একটি প্রধান স্তম্ভ।
এই জেলার উন্নয়নকে অবমূল্যায়ন করা মানে রাষ্ট্রীয় নীতি ও বাস্তবতার মধ্যে গভীর অসঙ্গতি তুলে ধরা।
সরকারের উচিৎ-অবকাঠামো ও শিল্পায়নে বিনিয়োগ বৃদ্ধি,কারিগরি শিক্ষা ও উচ্চশিক্ষার
প্রসার,জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ,পর্যটন শিল্পকে
আধুনিকায়ন ও বৈশ্বিক প্রচারণা। সাতক্ষীরা কেবল সুন্দরবনের জন্য পরিচিত নয়; বরং চিংড়ি শিল্প, কৃষি, বনজ সম্পদ,
পর্যটন ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ একটি জেলা। জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় এই অঞ্চলকে সমান
গুরুত্ব না দিলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন কখনোই
সুষম হবে না। তাই সাতক্ষীরাকে অবমূল্যায়ন নয়, বরং সম্ভাবনার আলোয় দেখাই সময়ের দাবি।