ঝিনাইদহ-২ আসনে মনোনয়ন ঘিরে তৃর্ণমুলে ঝড়-আমাদের নেতা চাই,বসন্তের কোকিল নয়’

আবু সাইদ শওকত আলী,বিশেষ প্রতিনিধি:-

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির ঝিনাইদহ-২

(ঝিনাইদহ সদর ও হরিণাকুন্ডু) আসনে তীব্র রাজনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।

২৩৭টি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করলেও এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে

এখনো প্রার্থী চূড়ান্ত ঘোষণা না হওয়ায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম ক্ষোভ ও বিভ্রান্তি।

তৃণমূলের অভিযোগ—দল যদি দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতা এম. এ. মজিদকে বাদ দিয়ে কেন্দ্রীয় যোগাযোগের জোরে কোনো

‘বসন্তের কোকিল’কে (বাইরের প্রার্থী) মনোনয়ন দেয়, তবে তারা মাঠে থাকবে না। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপসহ সামাজিক

যোগাযোগমাধ্যমে ইতিমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে ব্যানার, ভিডিও ও প্রতিবাদ বার্তা“আমাদের

নেতা চাই, বসন্তের কোকিল নয়”, “ত্যাগের ফসল বাইরের কেউ কেটে নিতে পারবে না”। প্রকাশ্য ক্ষোভ, হুঁশিয়ারি ও বিদ্রোহের সুর:

ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এস এম সমিনুজ্জামান সমিন বলেন “আমরা এমএ

মজিদের নেতৃত্বে রাজপথে লাঠি খেয়েছি, মামলা খেয়েছি, জেল খেটেছি। এখন যদি ত্যাগীর বদলে তল্পিবাহককে মনোনয়ন

দেওয়া হয়, আমরা মাঠে থাকব না। দলের চাকর হয়ে থাকব না।”

বিএনপির একাধিক স্থানীয় নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,যদি গণঅধিকার

পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খানকে এই আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়,তাহলে

তারা দলীয় অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেবেন এবং নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নেবেন না।

তাদের দাবি রাশেদ খান ঝিনাইদহের রাজনীতিতে অচেনা মুখ, তার কোনো সাংগঠনিক শিকড় নেই।

ত্যাগ বনাম তল্পিবাহকতা- নেতৃত্বের পরীক্ষায় বিএনপি:-ঝিনাইদহ বিএনপির তৃণমূল মনে

করছে এমএ মজিদ শুধু একজন প্রার্থী নন, বরং দলের আন্দোলন সংগ্রামে ত্যাগ ও

সাহসিকতার প্রতীক। দীর্ঘ বছর ধরে তিনি বিএনপির রাজনীতি টিকিয়ে রেখেছেন

হামলা-মামলার মধ্যেও। এখন যদি কেন্দ্র এই আসনটি শরিক দলের কাছে ছেড়ে দেয়,

সেটি হবে “আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত” বলছেন স্থানীয় নেতারা।তারা আরও সতর্ক করে

বলেন,“একজন ত্যাগী নেতাকে বাদ দিলে কেবল ঝিনাইদহ-২ নয়, পুরো জেলায় দলীয়

অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে। রাজপথে যারা বছরের পর বছর ঝড়-ঝাপটা সহ্য করেছে,

তাদের অবমূল্যায়ন করলে ভবিষ্যতে কেউ আর মাঠে থাকবে না।”শুধু একটি আসন নয়, ‘অস্তিত্বের লড়াই’

স্থানীয় বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ঝিনাইদহ-২ আসন এখন বিএনপির জন্য নেতৃত্ব, ত্যাগ, ও কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের সঠিক ভারসাম্যযাচাইয়ের টেস্ট কেস।

ভুল সিদ্ধান্তের ফল শুধু ভোট হারানো নয়, বরং জেলার সংগঠন, মনোবল ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাঠামোকেও ধ্বংস

করতে পারে। ইতোমধ্যে স্থানীয় রাজনৈতিক পরিসরে বিএনপির দুটি অংশের মধ্যে

বিরোধ ও উত্তেজনা দৃশ্যমান। দলীয় কর্মীদের একাংশ নির্বাচনী নিষ্ক্রিয়তা বা বর্জনের হুমকি দিয়েছে।  উপসংহার:-

ঝিনাইদহ-২ আসনের প্রশ্ন এখন শুধু একজন প্রার্থী নির্ধারণ নয়,এটি তৃণমূলের স্বপ্ন, ত্যাগ ও রাজনীতির অস্তিত্বের প্রশ্ন।
তৃণমূলের স্পষ্ট বক্তব্যত্যাগ ও আন্দোলনের মূল্য যদি না থাকে, তাহলে রাজনীতি কাদের জন্য? এই মুহূর্তে দলীয় হাইকমান্ডের জন্য

এটি এক কঠিন পরীক্ষার সময়। কেন্দ্র যদি স্থানীয় বাস্তবতা ও ত্যাগের রাজনীতি উপেক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেয়,

তাহলে ঝিনাইদহ-২ আসন কেবল একটি হারানো আসন নয়—বিএনপির ভবিষ্যতের জন্যও হতে পারে বড় রাজনৈতিক শিক্ষা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *