বিজিবির সংবাদ সম্মেলন ময়মনসিংহে ১১ মাসে ৬০ কোটি টাকার পণ্য জব্দ আটক ১১৪

ময়মনসিংহ অফিস :

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ময়মনসিংহ সেক্টর এলাকা ও সরাইল রিজিয়নের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তজুড়ে গত ১১ মাসে ব্যাপক চোরাচালানবিরোধী ও মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছে। এসব অভিযানে কোটি কোটি টাকার চোরাচালানী পণ্য, মাদকদ্রব্য জব্দসহ বহু আসামিকে আটক করা হয়েছে।

বুধবার (২৬ নভেম্বর) দুপুরে ময়মনসিংহ ৩৯ বিজিবি মাল্টিপারপাস শেডে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সদর দপ্তরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল সরকার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান এসব তথ্য তুলে ধরেন।

কর্নেল মোস্তাফিজুর রহমান জানান, জানুয়ারি থেকে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত ময়মনসিংহ সেক্টর পৃথক অভিযানে মোট ৫৫ কোটি ৯৪ লক্ষ টাকা মূল্যের চোরাচালানী মালামাল ও ১৪ জন চোরাচালানকারীক আটক করে। একই সময়ে মাদকবিরোধী অভিযানে ৪ কোটি ৬৪ লক্ষ টাকা মূল্যের মাদক জব্দ ও ১০০ জন মাদক আসামী গ্রেফতার করা হয়।

তিনি বলেন,“চোরাচালান, মাদক পাচার, জালনোট কারবার, অবৈধ পাথর–বালু উত্তোলন এবং সীমান্তবর্তী এলাকার অবৈধ অনুপ্রবেশ (পুশইন) রোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করছে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সীমান্তে নজরদারি আরো জোরদার করা হয়েছে।”

উত্তর–পূর্ব রিজিয়ন, সরাইল এর আওতাধীন ময়মনসিংহ, সিলেট, শ্রীমঙ্গল এবং কুমিল্লা সেক্টরের সম্মিলিত অভিযানে-২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ৭৫৪ কোটি ১৫ লক্ষ টাকা মূল্যের মালামাল আটক করা হয়।২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত ১০ মাস ২৫ দিনে ৭১০ কোটি ৮১ লক্ষ টাকা মূল্যের চোরাচালানী পণ্য জব্দ ও ৬৪ জন আসামী আটক করা হয়েছে।মাদকবিরোধী অভিযানে ৪৩ কোটি ৫৮ লক্ষ টাকার মাদক উদ্ধার হয় এবং ৩৩০ জন মাদক–কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।পরিবেশ ধ্বংসকারী কার্যকলাপ দমনে অভিযানে সাফল্য

বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, সরাইল রিজিয়নের ইউনিটগুলো বিভিন্ন সময়ে বিশেষ অভিযান চালিয়ে-৯ লক্ষ ৭৫ হাজার ৭৫৬ ঘনফুট বালু,৪ লক্ষ ৯১ হাজার ৮৪২ ঘনফুট পাথর,১৮ জন পরিবেশ–বিধ্বংসী কার্যকলাপে জড়িত আসামী গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

এছাড়া এসব অভিযানে-ট্রাক ২৭টি,ট্রলি ৭৫টি,ট্রাক্টর ৪৫টি,লরি ১৮টি,নৌকা ৪০টি।জব্দ করা হয় এবং বহু অবৈধ খনন সরঞ্জাম ধ্বংস করা হয়।

বিজিবি জানায়, সীমান্তে চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে জিরো–টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।
নজরদারি জোরদারে ব্যবহার করা হচ্ছে-ড্রোন,নাইট ভিশন,ডিজিটাল সার্ভেইলেন্স সিস্টেম।

সীমান্তবর্তী জনসাধারণকে সচেতনতা তৈরির জন্য নিয়মিত প্রেষণা কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে যাতে তারা যেকোনো অবৈধ কার্যকলাপ দেখলে বিজিবিকে তাৎক্ষণিক ভাবে অবহিত করেন।

সেক্টর কমান্ডার বলেন,সীমান্ত সুরক্ষিত থাকলে দেশ সুরক্ষিত থাকবে। এই কাজে স্থানীয় প্রশাসন,আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সাংবাদিক সমাজ ও সাধারণ জনগণের সহযোগিতা অপরিহার্য। বিজিবি এ দায়িত্ব পালনে সর্বদা অঙ্গীকারবদ্ধ।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *