ইতিহাস গড়লেন ঝিনাইদহের ‘বাঘিনী’ জয়ীতা!  নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের স্কোয়াডে জায়গা,আনন্দে ভাসছে পুরো জেলা

বু সাইদ শওকত আলী,বিশেষ প্রতিনিধি:

ঝিনাইদহের ক্রিকেট ইতিহাসে এই প্রথম! আমাদের জয়ীতা এবার বিশ্বমঞ্চে!  সমস্ত জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশ নারী জাতীয় ক্রিকেট দলের হয়ে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের স্কোয়াডে ডাক পেলেন ঝিনাইদহের কৃতী সন্তান জুয়াইরিয়া ফেরদৌস জয়ীতা। মেধা, কঠোর পরিশ্রম আর অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে তিনি এখন লাল-সবুজের জার্সি গায়ে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের স্কোয়াডে ডাক পেয়ে ইচ্ছা পূরর্ণ হলো।
এটি কেবল জয়ীতার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়। এটি ঝিনাইদহ জেলার প্রতিটি মানুষের জয়, পুরো বাংলাদেশের গর্বের মুহূর্ত। অজপাড়াগাঁ থেকে উঠে এসে বিশ্বমঞ্চে লাল-সবুজের প্রতিনিধিত্ব করা মোটেও সহজ ছিল না। কিন্তু জয়ীতা প্রমাণ করেছেন ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়! অভিনন্দন আমাদের ঘরের মেয়েকে। বিশ্বমঞ্চে তোমার ব্যাটে রানের ফুলঝুরি ছুটুক, তোমার সাফল্যে মুখরিত হোক সারা দেশ। পুরো দেশের মানুষের দোয়া আর ভালোবাসা সবসময় তোমার সাথে আছে।
ঝিনাইদহ থেকে এর আগে কোনো নারী ক্রিকেটার জাতীয় দলে এমনকি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের স্কোয়াডে ডাক পাননি। সেই খরা কাটালেন কাঞ্চন নগরের এই অদম্য তরুণী। পড়াশোনা এবং খেলাধুলায় দুই মাঠেই তিনি সমান পারদর্শী!
জুয়াইরিয়া ফেরদৌস জয়ীতার এই যাত্রা মোটেও সহজ ছিল না। তার বাড়ি ঝিনাইদহ শহরের কাঞ্চন নগর। সে লেখাপড়া করেছেন ঝিনাইদহের ফজর আলী স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করার পর বর্তমানে তিনি দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। রক্তেই যার খেলা! তিনি ঝিনাইদহ জেলার বিশিষ্টক্রীড়াবিদ ও প্রমীলা ক্রিকেটার সুরাইয়া বেগম-এর কন্যা। মায়ের দেখানো পথেই আজ তিনি হাঁটছেন গৌরবের মিছিলে।
এলাকাবাসীর মতে, সুরাইয়া বেগমের মেয়ে হিসেবে জয়ীতা ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলার প্রতি অনুরাগী ছিলেন। আজ তার এই সাফল্যে গর্বিত পুরো ঝিনাইদহবাসী।
জাতীয় দলে এমনকি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের স্কোয়াডে ডাক পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে ঝিনাইদহের অলিতে-গলিতে চলছে মিষ্টি বিতরণ। বন্ধু-বান্ধব ও শুভাকাক্সক্ষীরা আবেগময় বার্তা পাঠাচ্ছেন।
তার কিছু ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও শুভাকাক্সক্ষীরা বলেন, আপনার জন্য অনেক দোয়া এবং অভিনন্দন রইল। ঝিনাইদহের মুখ উজ্জ্বল করেছেন আপনি। ইনশাআল্লাহ, জাতীয় দলের হয়ে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আপনি আপনার সেরাটা দেবেন। আপনার জন্য অফুরন্ত শুভকামনা।”
শুধুমাত্র প্রতিভায় নয়, কঠোর পরিশ্রমে তিনি নিজের জায়গা করে নিয়েছেন। ঝিনাইদহের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, জয়ীতা তার পারফরম্যান্স দিয়ে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবেন। সাবাস জয়ীতা! এগিয়ে যাও, পুরো বাংলাদেশ তোমার সাথে আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *