মহেশপুরে ভৈরবা বাজারে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আচরণ বিধি বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত

শহিদুল ইসলাম,মহেশপুর,সংবাদদাতা:-
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নির্বাচনী আচরণবিধি সম্পর্কে ধারণা দিতে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ভৈরবা বাজারে এক তথ্য সম্প্রচার ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত ১০ জানুয়ারি শনিবার বিকাল আনুমানিক ৪টার দিকে ভৈরবা বাজার চত্বরে আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার জনাব মোঃ আব্দুল্লাহ আল মাসউদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার। এ ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রশাসনের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টরা সভায় অংশগ্রহণ করেন।
আলোচনা সভায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বাজার কমিটির সদস্য ও সাধারণ জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাঁশবাড়ীয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সুজানুর রহমান সুজা, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমসহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। পাশাপাশি ব্যবসায়ী, শ্রমজীবী মানুষ, শিক্ষক, তরুণ সমাজ ও ভোটাররাও সভায় অংশ নেন।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুল্লাহ আল মাসউদ বলেন, “ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর। নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলা শুধু প্রার্থীদের নয়, রাজনৈতিক দল, সমর্থক ও সাধারণ জনগণেরও দায়িত্ব।” তিনি নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সকলকে সহযোগিতার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার বলেন, “ভোটাধিকার একটি সাংবিধানিক অধিকার। ভোটারদের উচিত ভয়ভীতি বা প্রলোভনের বাইরে থেকে সচেতনভাবে ভোট প্রদান করা।” তিনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে সতর্ক করে দিয়ে জানান, যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আলোচনা সভায় বক্তারা নির্বাচনী আচরণবিধির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তারা জানান, প্রচারণা, পোস্টার লাগানো, মিছিল-মিটিং, নির্বাচনী ব্যয় ও ভোটকেন্দ্র সংক্রান্ত নিয়মাবলি যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। একই সঙ্গে গুজব, উসকানি ও সহিংসতা পরিহার করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভা শেষে ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয় এবং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে প্রশাসন, রাজনৈতিক দল ও সাধারণ জনগণের সম্মিলিত ভূমিকার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *