জীবননগর অফিস:
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলুর দ্বিতীয় জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার(১৫ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় জীবননগর পৌর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাকে পৌর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়।
এর আগে গতকাল বুধবার সকাল ১১টায় একই স্থানে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে ফ্রান্সপ্রবাসী ছোট ভাই আব্দুল্লা আল মামুনের উপস্থিতির জন্য মরদেহটি হিমাগার অ্যাম্বুলেন্সে করে জীবননগর পৌরসভার আশতলাপাড়া এলাকার নিজ বাড়ির সামনে রাখা হয়।
দ্বিতীয় জানাজায় ডাবলুর বড় ভাই উপজেলা বন কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম কাজল,ছোট ভাই আব্দুল্লা আল মামুন,পরিবারের সদস্য,আত্মীয়-স্বজন এবং বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী অংশ নেন।
জানাজা শেষে ডাবলুর বড় ভাই শরিফুল ইসলাম কাজল বলেন,গত বুধবার(১৪ জানুয়ারি) সবাই সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু আমরা কেবল আশ্বাসে বিশ্বাসী নই। এই হত্যাকাণ্ডে যারা জড়িত,তাদের প্রত্যেকের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। কেউ যেন দায় এড়িয়ে যেতে না পারে। জীবদ্দশায় আমরা যেন সেই বিচার দেখে যেতে পারি।
জীবননগর পৌর বিএনপির সভাপতি শাহজাহান কবীর অভিযোগ করে বলেন,একটি নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর অস্ত্র উদ্ধারের নাটক করা হয়েছে। যদি সত্যিই অস্ত্র পাওয়া যেত, তাহলে তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সোপর্দ করা হতো। নির্যাতনের পর ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
পরিবারের সদস্য ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে,গত সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থিত ডাবলুর নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘হাফিজা ফার্মেসি’র সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে তাকে বিএনপির একটি কার্যালয়ের কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। রাত আনুমানিক ১২টার দিকে তাকে গুরুতর অবস্থায় জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মকবুল হোসেন জানান,১২ জানুয়ারি রাত ১২.১৬ মিনিটে শামসুজ্জামান ডাবলুকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়।
চুয়াডাঙ্গা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জামাল আল-নাসের বলেন,জীবননগরে বিএনপি নেতাকে তুলে নেয়ার সময় জেলা পুলিশের কোনো সদস্য সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তবে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার বিষয়টি জানার পর পুলিশ সেখানে যায়।
ডাবলুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সোমবার দিবাগত রাত থেকেই জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা। খবর পেয়ে রাত দুইটার দিকে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সভাপতি ও বিজিএমইএর সভাপতি এবং চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরদিন মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে ফের ঘটনাস্থলে যান জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এবং সাধারণ সম্পাদক ও চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শরীফুজ্জামান শরীফ। তাদের আশ্বাসে পরিস্থিতি শান্ত হলে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম ও জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামাল হোসেনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপস্থিত হন।
বিচারের আশ্বাসের পর মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে শামসুজ্জামান ডাবলুর মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের উদ্দেশে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে সন্ধ্যায় মরদেহ তার বাড়িতে পৌঁছায়। পরদিন বুধবার প্রথম জানাজা এবং বৃহস্পতিবার(১৫ জানুয়ারি) দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। এসময় স্বজনদের পাশাপাশি দলীয় নেতাদের আবেগ আপ্লুত ও অশ্রুসিক্ত দেখা যায়।