আহম্মেদ সাগর, সদর প্রতিনিধি,ঝিনাইদহ:- –
ছেলের কণ্ঠ শোনেননি তিন মাস। আর ফোন বাজে না, কোনো খবর আসে না। জানালার পাশে বসে প্রতিদিন অপেক্ষা করেন মা, হয়তো আজ ফোন আসবে, হয়তো কেউ বলবে “মা কেমন আছো”। কিন্তু সেই আশার ফোন আর আসে না। প্রতিক্ষার প্রহর দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সাধুহাটী ইউনিয়নের বংকিরা গ্রামের তরুণ শাহালোম সিদ্দিক ইমন (২৪) মিশরে নিখোঁজ রয়েছেন দীর্ঘ তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে। পরিবার জানে না তিনি জীবিত আছেন, নাকি মারা গেছেন।
জীবনের একটু ভালো ভবিষ্যতের আশায় প্রায় ছয় মাস আগে নড়াইলের ইমরুল নামের এক দালালের মাধ্যমে মিশরে পাড়ি জমান ইমন। সেখানে ‘বিলিকেস মিল’ নামে একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন তিনি। সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল। হঠাৎ করেই থেমে যায় সব যোগাযোগ।
পরিবার জানায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার বহিরগাছি গ্রামের হানিফ নামের এক যুবক একদিন ফোন করে জানায়, ইমন মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছেন। এরপর ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর এই দিনটিই পরিবারের সঙ্গে ইমনের শেষ যোগাযোগ। তারপর থেকে নিখোঁজ।
সবচেয়ে যন্ত্রণার বিষয়, যিনি ইমনকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন সেই দালাল ইমরুলও এখন নিশ্চুপ। শুরুতে নিয়মিত কথা বললেও বর্তমানে তিনি ফোন ধরেন না। তার সহযোগীরাও ইমনের কোনো তথ্য দিতে পারছে না।
ইমনের মা শাহানারা খাতুন চোখের পানি মুছতে মুছতে বলেন, “আমার ছেলেটা কি খায়? কোথায় থাকে? বেঁচে আছে তো? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর কেউ দেয় না। আমি শুধু জানতে চাই, আমার সন্তানটা কোথায়।”
পিতা হাসান আলী বলেন, “আমরা গরিব মানুষ। ছেলেটাকে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম কষ্টের হাত থেকে বাঁচাতে। আজ সেই ছেলেই হারিয়ে গেল। প্রশাসন যদি পাশে না দাঁড়ায়, আমরা কী করবো?” নিখোঁজ শাহালোম সিদ্দিক ইমনের পাসপোর্ট নম্বর: এ-০৮০৯৩০৭৬।
এ বিষয়ে এলাকার ইউপি মেম্বর শহিদুল ইসলাম মনসাদ খবর নিশ্চিত করে জানান, তার গ্রামের ছেলে শাহালোম সিদ্দিক ইমনের কোন খোঁজখবর না পাওয়ায় তার পরিবারের হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি আমরা চেয়ারম্যান ও জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছি, যাতে ছেলেটির সন্ধান পাওয়া যায়।
সাধুহাটী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাজী নাজির উদ্দীন জানান, বিষয়টি তিনি জানেন। পরিবারটিকে নানা ভাবে সহায়তা করা হচ্ছে। প্রবাসী কল্যাণে কাজ করা এনজিও ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তিনি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
অসহায় পরিবারটি বাংলাদেশ সরকার, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, মিশরে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসী কল্যাণে কাজ করা এনজিও ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। তাদের দাবি দালাল চক্রের দায় নির্ধারণ এবং কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে ইমনের ভাগ্য জানার ব্যবস্থা করা হোক। ইমনের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ: ০১৭৩৮-৪৫৭১০২।