আবু সাইদ শওকত আলী,বিশেষ প্রতিনিধি: –
ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুজ্জামান আসাদ আইনের লড়াই থেকে সংসদের প্রত্যাশা। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা নিয়ে ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সক্রিয় হয়েছেন আসাদুজ্জামান আসাদ। আইনের শাসন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জনস্বার্থভিত্তিক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে ভোটের মাঠে নেমেছেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ও আইনজীবী আসাদুজ্জামান আসাদ। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে তার প্রার্থিতা ঘোষণার পর থেকেই এই আসনের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকে আসাদুজ্জামান নিয়মিত জনসংযোগ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাংগঠনিক সভা, সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় এবং স্থানীয় সমস্যা সরেজমিনে দেখার মাধ্যমে তিনি নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা বলছেন, তার প্রার্থিতায় দলের কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, আইন পেশায় সুদীর্ঘ সময় কাজের অভিজ্ঞতা এবং জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি এবার সরাসরি জনগণের ভোটে জাতীয় সংসদে যাওয়ার প্রত্যাশা করছেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আসাদুজ্জামান আসাদ ছাত্রজীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। রাজনৈতিক জীবনের পাশাপাশি তিনি নিজেকে একজন প্রতিষ্ঠিত আইনজীবী হিসেবে গড়ে তোলেন। সংবিধান, মানবাধিকার ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ মামলায় তার সক্রিয় ভূমিকা তাকে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত করে তোলে। রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবে অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্বও পালন করেন, যা তার রাজনৈতিক ও পেশাগত জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।
বিএনপির বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে আসাদুজ্জামান আসাদের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য বলে জানান দলীয় নেতারা। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রশ্নে তিনি সবসময় সরব ছিলেন। রাজনৈতিক সংকটকালে আইনি ও সাংবিধানিক ব্যাখ্যার মাধ্যমে দলের অবস্থান জনগণের সামনে তুলে ধরার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বলে দাবি দলীয় সূত্রের।
ঝিনাইদহ-১ আসনে প্রার্থিতা ঘোষণার পর থেকেই স্থানীয় পর্যায়ে জনসংযোগ কার্যক্রম জোরদার করেছেন আসাদুজ্জামান আসাদ। বিভিন্ন রাজনৈতিক সভা, নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তিনি এলাকার সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা শুনছেন। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মতে, একজন শিক্ষিত, অভিজ্ঞ ও জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত প্রার্থী হিসেবে তার উপস্থিতি দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করেছে।
মনোনয়ন ও নির্বাচন প্রসঙ্গে আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, ‘ঝিনাইদহ-১ আসনের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন, ন্যায়বিচার ও সুশাসনের অভাব অনুভব করছে। সংসদে গেলে আমি এই এলাকার মানুষের কণ্ঠস্বর হিসেবে কথা বলব এবং তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে কাজ করব।’
তিনি জানান, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে আইনের শাসন ও জবাবদিহিতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবেন। তার পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা কেন্দ্র স্থাপন, যাতে সাধারণ মানুষ সহজে আইনি পরামর্শ ও সহায়তা পেতে পারে। নারী ও শিশু নির্যাতন,ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ এবং হয়রানিমূলক মামলার ক্ষেত্রে জনগণকে সুরক্ষা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
শিক্ষা খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন,এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষক সংকট নিরসন এবং কারিগরি ও প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষার প্রসার তার অন্যতম লক্ষ্য। দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি ও সহায়তা কার্যক্রম চালুর কথাও জানান তিনি।
স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে আধুনিকীকরণ, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি গ্রাম পর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন বিষয়ে তিনি বলেন, যুব সমাজকে দক্ষ করে তুলতে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তা এবং কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষায় কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সঠিক বাস্তবায়নের কথাও তার পরিকল্পনায় রয়েছে।
সম্প্রতি এক পথসভায় আসাদুজ্জামান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এর আওতায় প্রতিটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড প্রদান করা হবে।
তিনি বলেন,নির্বাচিত হলে শৈলকুপাকে একটি মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলা হবে, যেখানে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকবে এবং সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলার কোনো স্থান থাকবে না।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন,দুর্নীতিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়ন ও জনকল্যাণে বিভিন্ন বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। পথসভা শেষে তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন।
এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেকেই একজন অভিজ্ঞ ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির প্রতিনিধি সংসদে দেখতে আগ্রহী। তাদের মতে, জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত একজন আইনজ্ঞ সংসদে গেলে এলাকার সমস্যা শুধু উন্নয়ন প্রকল্পেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্ব পাবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঝিনাইদহ-১ আসনে আসাদুজ্জামান আসাদের প্রার্থিতা নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। অভিজ্ঞতা, পেশাগত গ্রহণযোগ্যতা এবং রাজনৈতিক অবস্থানের সমন্বয়ে তিনি ভোটারদের সামনে একটি ভিন্ন বার্তা দিতে চাইছেন। আসন্ন নির্বাচনে ভোটাররা তার অভিজ্ঞতা, পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতিকে কতটা গ্রহণ করেন-সেদিকেই এখন সবার নজর।