আবু সাইদ শওকত আলী,ঝিনাাইদহ:-
ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ ও সদর উপজেলার আংশিক এলাকা) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী কাপ-পিরিচ প্রতীকের সাইফুল ইসলাম ফিরোজের নির্বাচনী অফিস ও তার সমর্থকদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে একের পর এক হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সর্বশেষ শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় কালীগঞ্জ উপজেলার নলডাঙ্গা বাজারে তার একটি নির্বাচনী অফিসে হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যায় একদল ব্যক্তি নলডাঙ্গা বাজারে অবস্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজের নির্বাচনী অফিসে হামলা চালায়। এ সময় অফিসে থাকা ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য ও প্রার্থীর সমর্থক ওয়াজ্জেদ আলী, তার ছেলে বাদশা ও আহাদ, ঘড়াশুনি গ্রামের রাজ্জাকের ছেলে শামীম এবং শ্রীমন্তপুর গ্রামের আয়নালের ছেলে জনিকে মারধর করা হয়। আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা অফিসে ভাঙচুর চালিয়ে আসবাবপত্র নষ্ট করে এবং আতঙ্ক সৃষ্টি করে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে।
এর আগে গত ৫ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টার দিকে কালীগঞ্জ শহরের নিশ্চিন্তপুর এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর আরেকটি নির্বাচনী অফিসে হামলা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা অফিসের টেবিল-চেয়ার ভাঙচুর করে এবং বাইরে থাকা তিনটি মোটরসাইকেল ক্ষতিগ্রস্ত করে। ঘটনাস্থল থেকে একটি ককটেল সদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেন। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
একই রাতে পৌরসভার হেলাই গ্রামে স্বতন্ত্র প্রার্থীর আরেকটি অফিসে ৮-১০ জনের একটি দল হামলা চালিয়ে চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করে মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে কালীগঞ্জ উপজেলার পুকুরিয়া গ্রামে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর এক সমর্থকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৩ জন আহত হন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, এলাকায় উত্তেজনা তত বাড়ছে। বিভিন্ন স্থানে ছোটখাটো বাগ্বিতণ্ডা, পোস্টার ছেঁড়া ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো ঘটনা ঘটছে। তবে এসব বিষয়ে সব পক্ষ থেকেই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করা হচ্ছে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ অভিযোগ করে বলেন, “আমার কর্মী-সমর্থকরা সর্বোচ্চ ধৈর্যের পরিচয় দিচ্ছে। কিন্তু পরিকল্পিতভাবে আমাদের ওপর হামলা ও ভাঙচুর চালানো হচ্ছে। প্রশাসন যদি জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিত হতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, আমাদের প্রতি তত অবিচার করা হচ্ছে। প্রশাসনের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ বলে মনে হচ্ছে।”
এ বিষয়ে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী রাশেদ খান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমাদের কোনো নেতাকর্মী বা সমর্থক হামলা-ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত নয়। স্বতন্ত্র প্রার্থীর লোকজন নিজেরাই এসব ঘটনা ঘটিয়ে আমাদের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে।”
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন জানান, নলডাঙ্গায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর অফিসে হামলার ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তিনি বলেন, “ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এখন পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা নির্বিঘ্ন রাখা এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর অফিস বা সম্পত্তিতে হামলা চালানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তবে ধারাবাহিক এসব ঘটনার পরও দ্রুত দৃশ্যমান আইনগত পদক্ষেপ না থাকায় স্থানীয়ভাবে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ঝিনাইদহ-৪ আসনে একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন সাধারণ ভোটাররা।
সর্বশেষ পরিস্থিতিতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন বা বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না—এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি।