জীবননগর অফিস:-
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের গয়েশপুর উত্তরপাড়া এলাকায় মাদক বিক্রিতে বাধা দেয়াকে কেন্দ্র করে ইদ্রিস আলী (৩৫) নামের এক যুবকে কুপিয়ে মারাত্মক ভাবে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনাটি শনিবার(৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে সংঘটিত হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
আহত ইদ্রিস আলী উপজেলার গয়েশপুর উত্তরপাড়া গ্রামের জোমার উদ্দিনের ছেলে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, একই গ্রামের নাসির উদ্দিন (৫৫), তার ছেলে হাবিবুর রহমান (৩৭) এবং স্ত্রী সেলিনা খাতুন দীর্ঘদিন ধরে নিজ বাড়িতে চোলাই মদসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য বিক্রি করে আসছেন। বিষয়টি নিয়ে তিনি প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং বিভিন্ন সময় হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছিলেন।
অভিযোগে জানা যায়,শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে ইদ্রিস আলী অভিযুক্তদের বাড়ির সংলগ্ন রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে আটক করা হয়। এসময় অভিযুক্তরা তাকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দিয়ে মারধর শুরু করেন। এক পর্যায়ে হাবিবুর রহমান তার হাতে থাকা একটি ধারালো হাসুয়া দিয়ে ইদ্রিস আলীর মাথায় কোপ দেয়ার চেষ্টা করেন। তিনি মাথা সরিয়ে নেয়ায় কোপটি তার বাম চোখের ওপর আঘাত করে,ফলে তিনি মারাত্মক ভাবে রক্তাক্ত জখম হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়,আহতের চোখের ওপর গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে নিজ বাড়িতে আশ্রয় নেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।এ ঘটনায় গ্রামের সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং তারা অভিযুক্ত মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে সীমান্ত ইউনিয়ন পরিষদের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড মেম্বার সাইফুল ইসলাম পাকু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,ঘটনার বিষয়টি স্থানীয় ভাবে সালিস বৈঠকে আপস নিস্পত্তি করা সম্ভব নয়।
এ বিষয়ে জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ সোলায়মান শেখ বলেন,ঘটনার ব্যাপারে লিখিত অবিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।