আবু সাইদ শওকত আলী,বিশেষ প্রতিনিধি:-
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় একটি সড়ক পাকাকরণ প্রকল্পে অনিয়ম ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কাজের অনিয়মের প্রতিবাদ জানাতে গেলে স্থানীয় এক যুবককে মারধরের অভিযোগও পাওয়া গেছে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলার বিত্তিপাড়া বাজার থেকে রাজাপুর পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার কাঁচা সড়ক পাকাকরণের কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে,“কাঁচেরকোল বাজার টু রাজাপুর ক্যানেল সড়ক” নামে প্রকল্পটির জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এক কোটি ৫০ লাখ ৩১ হাজার ৩’শ ৮৬ টাকা। কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়েছে মেসার্স ঝিনাইদহ বাজার নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। স্থানীয়ভাবে কাজটি সাব-ঠিকাদার হিসেবে পরিচালনা করছেন ইলিয়াস আলী।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সড়কের ভিত্তি যথাযথভাবে প্রস্তুত না করেই তড়িঘড়ি করে ইট বসানো হচ্ছে। ব্যবহৃত ইটের মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা। কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা দাবি করেন, ইটগুলো অত্যন্ত নিম্নমানের এবং অনেক ক্ষেত্রে হাত দিয়েই ভেঙে যাচ্ছে। এতে করে নির্মাণাধীন সড়কটির স্থায়িত্ব নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় যুবক আপেল মাহমুদ অভিযোগ করেন, কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলায় তাকে ও অন্যদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। তিনি বলেন, “আমরা কাজের মান নিয়ে আপত্তি জানালে ঠিকাদারের লোকজন আমাদের ওপর চড়াও হয়। আমাকে মারধরও করা হয়েছে।” তবে এ বিষয়ে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
গ্রাম্য চিকিৎসক এস এম আকাম উদ্দিন বলেন, “এই সড়কটি আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। কিন্তু যেভাবে কাজ হচ্ছে, তাতে অল্পদিনের মধ্যেই রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আমরা শুধু সঠিক মান বজায় রেখে কাজ করার অনুরোধ করেছি।”
অভিযোগের বিষয়ে সাব-ঠিকাদার ইলিয়াস আলী বলেন, “কাজ সম্পূর্ণ নিয়ম মেনেই করা হচ্ছে। নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগ সঠিক নয়।” তিনি দাবি করেন, প্রকৌশলীদের তদারকিতেই কাজ এগোচ্ছে।
ঝিনাইদহ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মনোয়ার উদ্দিন বলেন, “সড়ক নির্মাণে
কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও জানান, কাজের মান নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকাবাসী সড়কটির গুণগত মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি ও অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন