নিজস্ব প্রতিবেদক:
আসন্ন গণভোটকে কেন্দ্র করে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক বক্তব্যে জাতীয় পার্টির এক শীর্ষ নেতা জনগণকে ‘না’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবিত প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে এটিকে “অস্বচ্ছ ও বিতর্কিত উদ্যোগ” বলে অভিহিত করেন।বক্তব্যের শুরুতে দেশবাসীর প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি দাবি করেন,দেশ বর্তমানে “একটি ক্রান্তিকাল” অতিক্রম করছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাবিত উদ্যোগের আড়ালে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন লুকিয়ে রাখা হয়েছে, যা জনসমক্ষে স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, চারটি মূল বিবৃতির মাধ্যমে ৩৮টি পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে, যা নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।উক্ত নেতা বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে এবং দলগতভাবে জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তার দাবি, রংপুরে জাতীয় পার্টির দুই কর্মী নিহত হয়েছেন এবং আরও কয়েকজন কারাবরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। পাশাপাশি বহু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও নির্যাতিতদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে জাতীয় পার্টি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”তবে সংবিধান সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে তিনি দ্বিমত পোষণ করেননি। তার মতে, এ ধরনের সংস্কার অবশ্যই সংবিধানসম্মত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায়, নির্বাচিত সংসদ ও জনগণের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে হওয়া উচিত।বক্তব্যে দেশের আইনশৃঙ্খলা, অর্থনীতি ও সামাজিক সম্প্রীতির বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, দেশে সহিংসতা, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বাধার মতো ঘটনা ঘটছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এ বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়নি।অর্থনৈতিক খাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে শিল্পকারখানা বন্ধ, বেকারত্ব বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ রয়েছে। পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তা ও নারীর নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।প্রস্তাবিত গণভোট প্রসঙ্গে তিনি জনগণকে ‘না’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে আসন্ন নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রতীক ‘লাঙ্গল’-এ ভোট দেওয়ার অনুরোধ করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এটি গণতন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার সমতুল্য।বক্তব্যের শেষাংশে তিনি দেশব্যাপী বিভাজন ও অসহিষ্ণুতার রাজনীতি পরিহারের আহ্বান জানান। ধর্ম, লিঙ্গ বা মতভেদ নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সমান অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, “দেশ সবার, দেশের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরি।”এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আসন্ন গণভোট ও নির্বাচনকে ঘিরে বিভিন্ন দলের এমন বক্তব্যে রাজনৈতিক অঙ্গন আরও সরব হয়ে উঠবে।