জীবননগর অফিস:
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় নিখোঁজের এক সপ্তাহ পর সাফায়েত হোসেন শিমুল (৩৪) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছেন পুলিশ। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার কালা গাঙপাড়া সংলগ্ন ভৈরব নদী থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত শিমুল উপজেলার ধোপাখালী মাঠপাড়ার মৃত খলিলুর রহমানে ছেলে। তিনি পেশায় কৃষি কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন এবং তিন কন্যা সন্তানের জনক বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৭টার দিকে শিমুল হোসেন বাড়ি থেকে বের হন। এরপর আর তিনি বাড়িতে ফিরে আসেননি। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। কোনো সন্ধান না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে জীবননগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগে তার নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।
শনিবার(১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে ভৈরব নদীর তীরে মাঠে কাজ করার সময় স্থানীয় কয়েকজন নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখেন। তারা বিষয়টি আশপাশের লোকজন ও পরিবারকে জানান। পরে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি শিমুল হোসেনের বলে শনাক্ত করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে। পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চুয়াডাঙ্গা মর্গে পাঠায়।

নিহতের স্ত্রী জুঁই খাতুন দাবি করেন, তার স্বামীকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, শিমুলের সাথে একই গ্রামের গৃহবধূর পরকীয়া সম্পর্ক ছিল এবং এ নিয়ে পূর্বে পারিবারিক ও সামাজিক ভাবে বিরোধ সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে আগেও থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছিল বলে তারা জানান। পরিবারের দাবি, লাশের মুখ ও হাতে পোড়া দাগ রয়েছে। তাদের ধারণা, হত্যার পর পরিচয় গোপন বা আলামত নষ্ট করার উদ্দেশ্যে মুখমণ্ডল ও শরীরের কিছু অংশে এসিড জাতীয় পদার্থ নিক্ষেপ করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত মন্তব্যের জন্য ময়নাত দন্তের প্রতিবেদন প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য দোজা উদ্দিন বলেন, শিমুল ব্যক্তিগত কারণে আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ছিলেন। তার পারিবারিক জীবনে কিছু টানাপোড়েন চলছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্তেই স্পষ্ট হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ সোলায়মান শেখ বলেন,ভৈরব নদী থেকে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত নিয়মিত মামলা দায়ের হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, ময়না তদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। সন্দেহজনক কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তদন্তের পর প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। নিখোঁজের সাত দিন পর নদী থেকে লাশ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শিমুলের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নানা প্রশ্নের জন্ম নিয়েছে। পরিবারের দাবি-এটি একটি পরিকল্পিত হত্যা; তবে পুলিশ বলছে, তদন্ত ও ময়না তদন্তের প্রতিবেদন ছাড়া নিশ্চিত ভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।