ত্রয়োদশ সংসদের পর সম্ভাব্য নতুন মন্ত্রিসভা: কারা আসছেন দায়িত্বে?

বিশেষ প্রতিনিধি:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্ট মহলের তথ্য অনুযায়ী, ১৬ ফেব্রুয়ারি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হতে পারে এবং ১৭ বা ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।

সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নির্বাচনের ফলাফল সরকারি গেজেটে প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণের বিধান রয়েছে। জাতীয় সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী শপথ বাক্য পাঠ করাতে পারেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। তিনি অভিজ্ঞ ও প্রবীণ নেতাদের পাশাপাশি তরুণ ও উচ্চশিক্ষিত রাজনীতিকদের সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ মন্ত্রিসভা গঠনের পরিকল্পনা করছেন বলে জানা গেছে।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব (আন্তর্জাতিক বিষয়ক) হুমায়ুন কবিরের নাম আলোচনায় রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দলের বৈদেশিক সম্পর্ক উন্নয়নে ভূমিকা রেখে আসছেন। বিশ্বখ্যাত অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়ার নাম জোরালোভাবে শোনা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF)-এ প্রায় তিন দশক কর্মরত থাকার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী-র নাম সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে। তিনি ২০০১-২০০৪ মেয়াদে বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর-এর নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে তাকে রাষ্ট্রপতি পদেও বিবেচনা করা হতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. আসাদুজ্জামানের নাম সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে। মির্জা আব্বাস এবং মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ-এর নাম আলোচনায় রয়েছে। ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন দায়িত্ব পেতে পারেন বলে জানা গেছে। অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী-এর নাম শোনা যাচ্ছে। ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সম্ভাব্য দায়িত্বপ্রাপ্তদের তালিকায় আছেন। ড. আব্দুল মঈন খান রাষ্ট্রপতি না হলে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন।

নতুন সংসদ গঠনের পর রাষ্ট্রপতি পদেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন-এর নাম আলোচনায় রয়েছে। বিকল্প হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামও ঘুরে ফিরছে।

দলীয় সূত্রে আরও যেসব নেতার নাম মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে, তাদের মধ্যে আছেন-নজরুল ইসলাম খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সালাউদ্দিন আহমেদ, আন্দালিব রহমান পার্থ, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, শামা ওবায়েদ, আমান উল্লাহ আমান, শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, সেলিমা রহমান, মীর হেলাল, আসাদুল হাবিব দুলু প্রমুখ।

এছাড়া চিফ হুইপ হিসেবে জয়নাল আবেদিন ফারুক এবং হুইপ হিসেবে আশরাফ উদ্দিন নিজানের নাম আলোচনায় রয়েছে। চূড়ান্তভাবে মন্ত্রিসভার গঠন নির্ভর করবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাওয়া তারেক রহমান এবং দলের স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্তের ওপর। সংবিধান অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী যে কাউকে যেকোনো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রদান করতে পারেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকার গঠনের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি, কূটনীতি ও প্রশাসনে নীতিগত পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। এখন নজর রয়েছে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *