জীবননগর অফিস:
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হাসাদহ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষক প্রতিপক্ষের হামলা ও হুমকিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। নির্যাতনের শিকার শিক্ষক লুৎফর রহমান(৫০) সদ্য সমাপ্ত সংসদ নির্বাচনে সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেন।
প্রতিপক্ষরা চলতি মাসের ৯ ফেব্রুয়ারি বিকাল সাড়ে ৫ টার দিকে হাসাদহ বাজারে ওই শিক্ষকের ওপর হামলা ও মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। তবে স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে পরবর্তীতে মোটর সাইকেলটি ফেরত পেলেও শিক্ষক লুৎফর রহমান বর্তমানে প্রতিপক্ষের হুমকি ধামকীতে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এদিকে এ ঘটনায় সচেতন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
নির্যাতনের শিকার লুৎফর রহমান জানান,তিনি পেশায় হাসাদহ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি গত ৯ ফেব্রুয়ারি বিকাল সাড়ে ৫ টার দিকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রিজাইডিং অফিসার হিসাবে দায়িত্ব পালনের কাগজপত্র নিয়ে মোটর সাইকেল যোগে নিজ এলাকায় ফেরার পথে হাসাদহ বাজারের জনৈক কাজল মিয়ার মার্কেটের সামনে পৌঁছালে হাসাদহ ঘুষিপাড়ার আলমগীর হোসেন (৪০), নুরুল ইসলাম (৬৫), লাইজু মিয়া (২২) ও তাফসারুল ইসলাম (১৭) তাকে গতিরোধ করেন।
তারা বিনা উসকানিতে তাকে প্রকাশ্যে খুন ও গুমের হুমকি দেন। একপর্যায়ে তার মোটরসাইকেল রাস্তায় ফেলে দিয়ে কিল-ঘুষি মেরে শারীরিক ভাবে আঘাত করেন এবং মোটরসাইকেলটি ছিনিয়ে নেন। এসময় প্রতিপক্ষ তকে রাতের আধারে গুম করে দেয়ার হুমকিও দেয়। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজনের হস্তক্ষেপে মোটরসাইকেলটি ফেরত দেয়া হলেও অভিযুক্তরা তাকে হুমকি অব্যাহত রেখেছেন। এতে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে এলাকায় একটি অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে গ্রামবাসী সালিস বৈঠক করেন,যেখানে শিক্ষক লুৎফর রহমান উপস্থিত ছিলেন। সেই ঘটনার জের ধরেই ক্ষোভ থেকে এ হামলার ঘটনা ঘটতে পারে বলে এলাকাবাসীর ধারণা। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচন কর্মকর্তা ও শিক্ষককে প্রকাশ্যে হামলা ও হুমকির ঘটনায় সুশীল সমাজ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং দ্রুত বিচার দাবি করেছে।
এ ব্যাপারে হাসাদহ ইউনিয়ন পরিষদের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড সদস্য হাবিবুর রহমান জানান,ঘটনাটি দু:খজনক। একজন স্কুল শিক্ষককে বিনা কারণে এমন নির্যাতন মেনে নেয়া যায় না। তবে বিষয়টি স্থানীয় ভাবে আপস নিস্পত্তির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
এ বিষয়ে জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ সোলায়মান শেখ জানান,লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।