গৌরীপুরকে অপরাধ মুক্ত উপজেলা গড়ার অঙ্গীকার এমপি ইঞ্জিনিয়ার-এম ইকবাল হোসাইনের

মাদক সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান

ময়মনসিংহ অফিস:
গৌরীপুর উপজেলাকে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিমুক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসাইন। নির্বাচন-পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা ও দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নয়নই হবে তাঁর প্রথম অগ্রাধিকার।
ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনের নবনির্বাচিত এই সংসদ সদস্য স্পষ্টভাবে জানান, “গৌরীপুরে মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির কোনো স্থান থাকবে না। কেউ এসব অপকর্মে জড়িত থাকলে দলীয় পরিচয় তাকে রক্ষা করতে পারবে না।” তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রশাসনিক তৎপরতা এবং সামাজিক অংশগ্রহণ—এই তিনের সমন্বয়েই অপরাধ দমন সম্ভব।
সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর
বক্তব্যে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কেবল প্রশাসনের একক দায়িত্ব নয়; জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক সংগঠন, সামাজিক নেতৃত্ব এবং সচেতন নাগরিকদেরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে অপরাধবিরোধী কমিটি সক্রিয় করা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং তথ্যভিত্তিক নজরদারি জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।
সিনিয়র নেতাদের উদ্দেশে এমপি বলেন, “এখন সময় এসেছে মাঠে কাজ করার। কোনো দুর্বৃত্ত যেন দলের ছত্রচ্ছায়া ব্যবহার করে অপরাধ করতে না পারে—সে বিষয়ে সবাইকে কঠোর থাকতে হবে।” দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিতও দেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা কামনা
তিনি স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি সহযোগিতা কামনা করে বলেন, মাদক ও চাঁদাবাজি দমনে নিয়মিত অভিযান, গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টদের মতে, তাঁর বক্তব্যে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার একটি বার্তা স্পষ্ট হয়েছে।
দীর্ঘদিনের সামাজিক সমস্যা
স্থানীয় সচেতন মহলের ভাষ্য, গৌরীপুরে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি এবং প্রভাবশালী সন্ত্রাসী চক্রের কার্যক্রম নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অপরাধীরা পার পেয়ে গেছে—এমন অভিযোগও শোনা যায়। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তৈরি হয়েছে।
সামাজিক কর্মীরা মনে করেন, শুধু অভিযান চালালেই হবে না; পুনর্বাসন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কিশোরদের জন্য খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালু করা জরুরি।
নতুন প্রত্যাশা ও বাস্তব চ্যালেঞ্জ
নবনির্বাচিত এমপির ঘোষণাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অনেকেই। তাঁদের মতে, দলীয় প্রভাবশালী মহলসহ সব অপরাধীর বিরুদ্ধে সমানভাবে ব্যবস্থা নেওয়া গেলে পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে—দলের ভেতরে বা প্রভাবশালী গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণে আনা এবং ধারাবাহিকভাবে আইনি পদক্ষেপ বজায় রাখা।
সামনে যে প্রশ্ন
এমপি ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসাইনের ঘোষণায় গৌরীপুরবাসীর মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। এখন দেখার বিষয়—এই রাজনৈতিক অঙ্গীকার কত দ্রুত ও কতটা কার্যকরভাবে বাস্তব পদক্ষেপে রূপ নেয়। ঘোষণার বাস্তব প্রতিফলন ঘটলে গৌরীপুর একটি নিরাপদ, শান্ত ও উন্নয়নমুখী উপজেলায় পরিণত হতে পারে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *