বিশেষ প্রতিনিধি:-
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরপরই প্রশাসনিক কাঠামো শক্তিশালী করতে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় ১০ জন উপদেষ্টা নিয়োগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার রাতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। একই সঙ্গে বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজেও নিয়োগসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন-মির্জা আব্বাস,নজরুল ইসলাম খান,রুহুল কবির রিজভী,মো: ইসমাইল জবিউল্লাহও ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
এছাড়া প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন-হুমায়ুন কবির,ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলাম,ডা. জাহেদুর রহমান,ড. মাহাদি আমিন,রেহান আসিফ আসাদ।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, নীতিনির্ধারণ, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং বিভিন্ন খাতে সংস্কার কার্যক্রমে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরকে সহায়তা করার লক্ষ্যে এ উপদেষ্টাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় রেখে তারা দায়িত্ব পালন করবেন।
এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিন তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান। একই অনুষ্ঠানে নতুন মন্ত্রিসভার ৪৯ জন সদস্য—মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী—শপথ গ্রহণ করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকারের কার্যক্রম দ্রুতগতিতে শুরু করতে এবং নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে উপদেষ্টা নিয়োগ একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। সরকার গঠনের পরপরই প্রশাসনিক প্রস্তুতি জোরদার করার অংশ হিসেবেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করে। নতুন সরকারের সামনে অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা, নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন ও প্রশাসনিক সংস্কারসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ রয়েছে। উপদেষ্টাদের কার্যকর ভূমিকার মাধ্যমে এসব খাতে দ্রুত অগ্রগতি আসবে বলে সরকার আশা প্রকাশ করেছে।