জীবননগর অফিস:
পবিত্র রমজান মাসের শুরুতেই চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হাট-বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে সবজি, মুরগি, মাংস, ডাল, আটা, তেলসহ অধিকাংশ পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এতে নিম্ন ও মধ্যআয়ের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
উপজেলার বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, আলু ও পেঁপে ছাড়া অধিকাংশ সবজি এখন ৬০ থেকে ৮০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। বেশিরভাগ সবজির দাম কেজিপ্রতি ২০–৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি বেগুন ৭০–৮০ টাকা থেকে বেড়ে ১২০–১৩০ টাকা,শসা (খিরা) ৫০ টাকা থেকে বেড়ে ১১০–১২০ টাকা,লেবু: ৭–৮ টাকা থেকে বেড়ে ২৫–৩০ টাকা (পিস),কাঁচা মরিচ ৭০–৮০ টাকা থেকে বেড়ে ২০০ টাকা।
স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক মনিরুল ইসলাম জানান, রোজা শুরু হতেই সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে ২০–৩০ টাকা বেশি হাঁকা হচ্ছে। চারটি লেবুর দাম ১০০ টাকা এবং প্রতি কেজি শসা ১০০–১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তুলনামূলকভাবে কম দামে মিলছে কেবল পাতাকপি, আলু ও পেঁপে।ক্রেতাদের অভিযোগ, রমজানকে কেন্দ্র করে কৃত্রিমভাবে চাহিদা বাড়ার অজুহাতে দাম বাড়ানো হচ্ছে।

পাইকারি বাজারে সরু চালের দাম কেজিতে ২–৩ টাকা কমলেও খুচরা বাজারে তার প্রভাব দেখা যায়নি। ডাল ও আটার দাম কেজিপ্রতি ৫–১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
অন্যদিকে, তেলের বাজারেও অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে। প্রতি লিটার সয়াবিন তেল ১৮৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে পেঁয়াজ ও ছোলার দাম তুলনামূলক ভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ ছোলা আমদানির ফলে বাজারে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, যা আগামী কয়েক মাসের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবে।
ভোক্তাদের স্বস্তি দিতে খেজুরের ওপর আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হলেও বাজারে এর ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। বরং দাবাস, বরই, সুক্কারি ও মরিয়মসহ বিভিন্ন জাতের খেজুরের দাম বেড়েছে। বর্তমানে বাজারে বিভিন্ন মানের খেজুর ৫০০ থেকে ১৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, রমজান উপলক্ষে নিত্যপণ্যের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। ফলে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ থাকার কথা নয়।

তবে সংশ্লিষ্টদের একাংশের অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেট সরবরাহ ঘাটতির অজুহাতে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। বৃহস্পতিবার বাজারের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে এমন আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে। ভ্যানচালক সবিল হোসেন বলেন,বাজারে কোনো কিছুরই নাগাল নেই। ৫০০ টাকা নিয়ে বাজারে এসে প্রয়োজন মতো কিছুই কেনা যাচ্ছে না।
নিম্ন আয়ের অনেক ক্রেতাই জানিয়েছেন, বাড়তি দামের কারণে তারা প্রয়োজনীয় পণ্যের পরিমাণ কমিয়ে দিচ্ছেন। কেউ কেউ মাংস বা মাছ কেনা বন্ধ করে সবজির ওপর নির্ভরশীল হচ্ছেন-কিন্তু সবজির দামও নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। রমজানের শুরুতেই নিত্যপণ্যের এমন ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের জন্য উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।
বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও যদি মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত থাকে,তবে তা নিয়ন্ত্রণেপ্রশাসনের কার্যকর মনিটরিং ও বাজার তদারকি জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল। ভোক্তাদের প্রত্যাশা-বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরুক,রমজান মাসে নিত্যপণ্যের দাম থাকুক সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে।