বিশেষ প্রতিনিধি:-
বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনকে ঘিরে দলীয় নেত্রীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ও আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রাখা ত্যাগী নেত্রীদের মধ্য থেকেই মনোনয়ন দেওয়ার দাবি উঠেছে বিভিন্ন জেলা ও অঙ্গসংগঠনের পক্ষ থেকে।
আলোচনায় রয়েছেন সাবেক নেত্রী সাবরিনা বিনতে আহমেদ; ফেনী থেকে অ্যাডভোকেট শাহানা আক্তার শানু; ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ মহিলা দলের নেত্রী নাদিয়া পাঠান পাপন; নরসিংদী থেকে ইডেন কলেজ ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী সেলিনা সুলতানা নিশিতা; মাদারীপুর থেকে ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেত্রী অ্যাডভোকেট শওকত আরা উর্মি; মুন্সীগঞ্জ থেকে নাসিমা আক্তার কেয়া; মানিকগঞ্জ থেকে মনিরা আক্তার রিক্তা ও রুকসানা খানম মিতু; বরিশাল থেকে আফরোজা খানম নাসরিন; লক্ষ্মীপুর থেকে স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি মরহুম শফিউল বারী বাবুর সহধর্মিণী বিথিকা বিনতে হুসেইন; বাগেরহাট থেকে আয়শা সিদ্দিকা মানি; কুমিল্লা থেকে হেনা আলাউদ্দিন; নারায়ণগঞ্জ থেকে অ্যাডভোকেট সালমা আক্তার সোমা; নরসিংদী থেকে মহিলা দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক শাহিনুর নার্গিস ও নিলুফা ইয়াসমিন নিলু; নোয়াখালী থেকে অ্যাডভোকেট শাহিনুর বেগম সাগর; বান্দরবান থেকে আলীকদম উপজেলা পরিষদের চারবারের নির্বাচিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও বান্দরবান জেলা মহিলা দলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শিরিনা আক্তার; বিএনপির সাবেক নেতা মরহুম হারিছ চৌধুরীর মেয়ে সামিরা তানজিনা চৌধুরী; এবং সাবেক এমপি মকবুল হোসেন (লেচু মিয়া)-এর মেয়ে সৈয়দা আদিবা হোসেন।
দলীয় সূত্র জানায়, দুঃসময়ে সক্রিয় থাকা এবং হামলা-মামলা ও নির্যাতনের শিকার হওয়া নেত্রীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে তৃণমূলের জোর দাবি রয়েছে। তাদের মতে, সাংগঠনিক দক্ষতা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও ত্যাগের ইতিহাস বিবেচনায় এনে মনোনয়ন দিলে দল আরও শক্তিশালী হবে।
ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য ও বর্তমান জেলা মহিলা দলের উপদেষ্টা মাহাবুবা রহমান বলেন, “বিগত দিনে বারবার হামলা-মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছি। রাজনীতি করার কারণেই বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে। তারপরও রাজপথ ছেড়ে যাইনি। আশা করি, দলের হাইকমান্ড ত্যাগীদের মধ্য থেকেই মনোনয়ন দেবেন।”
সংরক্ষিত আসনের সাবেক এমপি নিলোফার চৌধুরী মনি বলেন, “ছাত্রজীবন থেকে দলের সঙ্গে আছি। গত ১৭ বছর নানা নিপীড়নের শিকার হয়েছি। কিন্তু দল ছাড়িনি। প্রত্যাশা—দুর্দিনের নেতাকর্মীদের মধ্য থেকেই সংসদে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।”
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান তানজিন চৌধুরী লিলি বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকেই ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হই। পরে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই। আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলাম। দল আমার অতীত কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন করবে বলে বিশ্বাস করি।”
ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেত্রী আরিফা সুলতানা রুমা বলেন, “বিগত সময়ে নানাভাবে নির্যাতিত হয়েছি। কখনো দল ছেড়ে যাইনি, কারও সঙ্গে আপসও করিনি। প্রত্যাশা—ত্যাগী নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে।”
দলীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন ঘিরে এবার প্রতিযোগিতা তুলনামূলক বেশি। তৃণমূলের দাবি, ত্যাগ, অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক দক্ষতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিলে দল উপকৃত হবে। এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় সংশ্লিষ্ট সবাই।