জীবননগর অফিস:-
জীবননগর উপজেলার বাঁকা গ্রামে বর্গা জমিতে চাষ করা কলা কেটে নেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বিরোধের জেরে এক বিএনপি কর্মীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। ইটের আঘাতে তার কানের একটি অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং মাথায় গুরুতর জখম হন তিনি। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহত ব্যক্তির নাম আসরাফুল ইসলাম (ডাকনাম আরসাফ)। তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাঁকা গ্রামে একটি বর্গা (শেয়ার ক্রপিং) জমিতে কলা চাষ করা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ চলছিল। সম্প্রতি ওই জমির কলার কাঁদি কেটে নেওয়া নিয়ে বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করে।
গ্রামবাসীর দাবি, গত শুক্রবার রাতে স্থানীয় বাসিন্দা রিপন মোল্লার সঙ্গে আরসাফের কথা-কাটাকাটি হয়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও পরিস্থিতি তাৎক্ষণিকভাবে নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে পরদিন শনিবার সকালে বিষয়টি নিয়ে পুনরায় ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়।
অভিযোগ অনুযায়ী, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাঁকা গ্রামের আনারের দোকানের সামনে অবস্থিত স্থানীয় বিএনপির কার্যালয়ে বসে ছিলেন আরসাফ। এ সময় রিপন মোল্লার ছোট ভাই সুজন মোল্লা সেখানে এসে হঠাৎ তার ওপর হামলা চালান। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, সুজন ইট দিয়ে আরসাফের মাথা ও কানে আঘাত করেন। এতে তার ডান কানের একটি অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং মাথায় রক্তাক্ত জখম হয়।
ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তার কানের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে রেফার করেন। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যমতে, তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহত আসরাফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “আমি দলীয় কার্যালয়ে বসে ছিলাম। হঠাৎ সুজন মোল্লা এসে কোনো প্রকার কথা না বলেই আমার ওপর হামলা চালায়। ইট দিয়ে মাথা ও কানে আঘাত করলে আমার কানের একটি অংশ কেটে যায়। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
অভিযুক্ত পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় আসরাফুল ইসলাম জীবননগর থানায় সুজন মোল্লার বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। জীবননগর থানা-পুলিশ জানায়, অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।