জীবননগর অফিস:
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা পৌর এলাকায় যুবদল কর্মী রিপনের ওপর সংঘটিত হত্যাচেষ্টা মামলায় প্রধান অভিযুক্তসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (ভোরে) ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর থানার পুড়াপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে এজাহারভুক্ত যুবলীগ ও আওয়ামীলীগের কর্মী হিসেবে পরিচিত খাইরুল ইসলাম, শরিফুল ইসলাম, আব্দুল কুদ্দুস ও আবুল হাসেম। বুধবার দুপুরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্তের স্বার্থে রিমান্ড আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
অভিযানে দর্শনা থানা পুলিশের পাশাপাশি চুয়াডাঙ্গা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল অংশ নেয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার সন্ধ্যায় দর্শনা পৌর এলাকার ঈশ্বরচন্দ্রপুর বড় মসজিদের সামনে ইফতার শেষে নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময় যুবদল কর্মী রিপন (৪৫) হামলার শিকার হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগে থেকে ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়।
স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্বজনদের বরাতে জানা গেছে, তার শরীরে ১২৩টি সেলাই দেওয়া হয়েছে এবং চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তিনি এখনও শঙ্কামুক্ত নন।
স্থানীয়দের দাবি, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছিল। পূর্ব বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি নেতারা।
দর্শনা পৌর বিএনপির সমন্বয়ক মো. হাবিবুর রহমান বুলেট বলেন, “এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাচেষ্টা। আমরা দোষীদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
ঘটনার প্রতিবাদে সেদিন রাতেই বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল ও থানা ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেন। এতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান জানান,হত্যাচেষ্টা মামলার চারজন এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। আদালতে রিমান্ড আবেদন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এলাকায় যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে, সে লক্ষ্যে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নজরদারি জোরদার করেছে। রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে এ ধরনের সহিংস ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
তদন্তের অগ্রগতি ও আহত রিপনের শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে মামলার পরবর্তী কার্যক্রম নির্ধারিত হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।