জীবননগর অফিস:
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় ১০ দিনের ব্যবধানে পাশাপাশি দুটি গ্রাম থেকে দুইটি মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটেছে। এতে স্থানীয় বাইকার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। ঘটনা দু’টি গত ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সংঘটিত হয়েছে।এসব ঘটনা ইফতার ও মাগরিবের নামাজের সময়কে টার্গেট করে সংঘটিত করা হচ্ছে।
উপজেলার কেডিকে ইউনিয়নের খয়েরহুদা গ্রামের সোহরাব হোসেনের ছেলে তৌকির আহম্মেদ(৩০)জানান, বৃহস্পতিবার(২৬ ফেব্রুয়ারি)বিকাল ৫.৪৫ মিনিটে প্রতিদিনের মত ইফতারের প্রস্তুতি নিতে তার লাল-কালো স্টিকারযুক্ত ডিসকভার-১২৫ সিসি মোটরসাইকেল (রেজিস্ট্রেশন নং: চুয়াডাঙ্গা-হ-১৩-৩৫০২) বাড়ির সামনে ফাঁকা স্থানে রেখে তিনি বাড়ীর ভিতরে যান।
পরবর্তীতে সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের দিকে বাড়ির বাইরে এসে দেখেন মোটরসাইকেলটি নেই। তাৎক্ষণিক ভাবে তিনি হতবাক হয়ে পড়েন এবং আশপাশের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও মোটরসাইকেলের কোনো সন্ধান পাওয়া যায় না। তার ধারণা, ইফতারের সময়ের সুযোগে অজ্ঞাতনামা চোর বা চোরচক্র কৌশলে মোটর সাইকেলটি চুরি করে নিয়ে যায়।
এদিকে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি মনোহরপুর দক্ষিণপাড়ায় একই ধরনের আরেকটি চুরির ঘটনা ঘটে। লাভলু রহমানের ছেলে রাকিবুল ইসলাম তার লাল-কালো স্টিকারযুক্ত পালসার-১৫০ সিসি মোটরসাইকেল গ্রামের মসজিদের সামনে রেখে মাগরিবের নামাজ আদায় করতে ভিতরে যান। নামাজ শেষে বের হয়ে তিনি দেখেন তার মোটরসাইকেলটিও চুরি হয়ে গেছে।
মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে নিকটবর্তী দুই গ্রামে দুইটি মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় স্থানীয় বাইকারদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা মনে করছেন,একটি সক্রিয় চোরচক্র এলাকায় তৎপর হয়ে উঠেছে। সন্ধ্যা ও নামাজের সময়কে লক্ষ্য করে চুরির ঘটনা ঘটানো হচ্ছে বলেও অনেকে ধারণা করছেন।

এদিকে ঘনঘন মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী দ্রুত চোরচক্র শনাক্ত ও গ্রেফতার এবং চুরি হওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধারসহ কার্যকর টহল জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন,সিসিটিভি স্থাপন,কমিউনিটি পুলিশিং জোরদার,এলাকার দুষ্টচক্রের ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপন গ্রহন করা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিয়মিত টহল বাড়ানো হলে এ ধরনের অপরাধ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ সোলায়মান শেখ বলেন,ঘটনা দু’টির ব্যাপারে পৃথক লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে।সব ঘটনায় তদন্ত চলমান রয়েছে।ঘটনার সাথে জড়িতদেরকে শনাক্ত করে গ্রেফতার চেষ্টা চলছে।