জীবননগর অফিস:-
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হাসাদহ বাজারে বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে এক জামায়াত নেতার মৃত্যুর ঘটনায় বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জীবননগর শাখার নেতাকর্মিরা। রোববার (১ মার্চ)সকাল ১১টার দিকে উপজেলা জামায়াতের কার্যালয় থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়।
মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ইসলামী ব্যাংক সংলগ্ন সড়ক হয়ে জীবননগর বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা জামায়াতের আমির মাও. সাজেদুর রহমান, নায়েবে আমির সাখাওয়াত হোসেন, জেলা মাজলিসুল মুফাসসিরিনের সভাপতি হাফিজুর রহমান,সহকারী সেক্রেটারি আবু বক্কর ও পৌর যুব জামায়াতের সভাপতি আরিফ জোয়ার্দার।
বক্তারা অভিযোগ করেন,পরিকল্পিত হামলার মাধ্যমে তাদের এক নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার না হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুটিয়া গ্রামের জামায়াত সমর্থক কেরামত আলীর ছেলে সোহাগের সঙ্গে হাসাদাহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা জসিম উদ্দীনের ছেলে মেহেদীর পূর্ব বিরোধ ছিল। ওই বিরোধ মীমাংসার লক্ষ্যে শনিবার রাতে হাসাদাহ বাজারে দুই পক্ষের বৈঠকের কথা ছিল।
তবে সন্ধ্যার দিকে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়ে ধাক্কাধাক্কি এবং পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে কয়েকজন আহত হন।
সংঘর্ষে সুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মৃত ওহাবের ছেলে মফিজুর রহমান (৪৫),তার বড় ভাই হাফিজুর রহমান (৫০) মৃত গোপাল মণ্ডলের ছেলে খায়রুল ইসলাম (৫০) ও হাফিজুর রহমান হাফু আহত হন। গুরুতর আহত হাফিজুর রহমানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়ার পথে রাত ২টার দিকে তার মৃত্যু হয় বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
অন্যদিকে সংঘর্ষে হাসাদাহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মেহেদী হাসান (৩৬),তার পিতা জসিম উদ্দিন (৬৫) এবং তৌফিক হোসেন (৪০) আহত হয়েছেন। তাদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়।
রোববার সকাল ১০টায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিহত হাফিজুর রহমানের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। বিকেল ৩টায় সুটিয়া গ্রামে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এ বিষয়ে জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান সেখ বলেন, বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে আহত একজনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে আছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় ভাবে যাতে আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।