চুয়াডাঙ্গায় গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ বীজ (কন্দ) উৎপাদন ও সংরক্ষণ বিষয়ে প্রশিক্ষনের উদ্বোধন করেন-জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন

বিশেষ প্রতিনিধি:-

চুয়াডাঙ্গায় গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ বীজ (কন্দ) উৎপাদন ও সংরক্ষণ কৌশল বিষয়ে প্রণোদনাপ্রাপ্ত কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়ে একদিনব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চুয়াডাঙ্গার উদ্যোগে জেলা কৃষি প্রশিক্ষণ কক্ষে ২০২৫–২৬ অর্থবছরের খরিফ মৌসুমে কৃষি পুনর্বাসন খাতে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। সকাল ১১টায় প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চুয়াডাঙ্গার উপপরিচালক মো. মাসুদুর রহমান সরকার। প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা এবং দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমান।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (উদ্যান) দেবাশীষ কুমার দাস, অতিরিক্ত উপপরিচালক (পিপি) মিঠু চন্দ্র অধিকারী, কৃষি প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান, দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন আক্তার এবং সদর কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আসিফ ইকবাল।
প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মসলা গবেষণা কেন্দ্র শিবগঞ্জ বগুড়া-এর ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. নুর আলম চৌধুরী এবং কীটতত্ত্ববিদ মো. মামুন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। এ ধরনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কৃষকরা মানসম্মত বীজ উৎপাদন ও সংরক্ষণ সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান অর্জন করবেন। এতে করে পেঁয়াজ বীজের আমদানিনির্ভরতা কমবে এবং দেশের কৃষি অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।
তিনি আরও বলেন, কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে স্থানীয় পর্যায়ে বীজ উৎপাদনের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে কৃষকরা ভেজাল বা নিম্নমানের বীজের কারণে ক্ষতির শিকার হওয়ার ঝুঁকি থেকেও মুক্ত থাকতে পারবেন।
প্রশিক্ষণে জেলার বিভিন্ন উপজেলার মোট ৫০ জন অগ্রগামী আধুনিক কৃষক এবং ১০ জন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন। দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের কন্দ উৎপাদন পদ্ধতি,রোগ-বালাই দমন, বীজ সংরক্ষণ কৌশল এবং আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন, এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কৃষকরা উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে মানসম্মত পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনে আরও দক্ষ হয়ে উঠবেন এবং চুয়াডাঙ্গা জেলায় বাণিজ্যিকভাবে পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনের সম্ভাবনা আরও বিস্তৃত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *