চুয়াডাঙ্গার দর্শনা চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে ফিরলেন ফাল্গুনী রায় প্রতারণা, কারাভোগ ও দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর অবশেষে দেশে ফেরা

বিশেষ প্রতিনিধি:

ভারতের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ থানার ট্যাংরা কলোনির বাসিন্দা ফাল্গুনী রায় (প্রায় ৩৫) দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে অবশেষে নিজ দেশে ফিরে গেছেন। রোববার (৮ মার্চ) সকাল ১১টার দিকে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা চেকপোস্টে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

জানা যায়, প্রায় ১০–১১ বছর আগে বাংলাদেশের পিরোজপুর জেলার স্বরূপকাঠি উপজেলার বাসিন্দা গৌরাঙ্গ সরকার পরিচয় গোপন করে ভারতে গিয়ে ফাল্গুনী রায়কে বিয়ে করেন। ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে তিনি নিজেকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে পরিচয় দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিয়ের পর তাদের সংসারে একটি ছেলে সন্তানের জন্ম হয়।

সন্তানের বয়স পাঁচ থেকে ছয় বছর হওয়ার পর গৌরাঙ্গ সরকার সন্তানকে নিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসেন এবং পরবর্তীতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে স্থানীয়ভাবে গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়।

দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর প্রায় পাঁচ থেকে ছয় বছর আগে ফাল্গুনী রায় প্রতিবেশী প্রসেনজিতের সঙ্গে নতুন করে সংসার শুরু করেন। তবে প্রথম সংসারের সন্তানকে একবার দেখার আকাঙ্ক্ষা থেকেই তিনি ২০২৪ সালের জুন মাসে বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে আসেন।

স্বরূপকাঠিতে সাবেক স্বামীর বাড়িতে পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি তার বিপক্ষে চলে যায় বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় তার পাসপোর্ট ও অন্যান্য কাগজপত্র কেড়ে নেওয়া হয় এবং তাকে সেখান থেকে বের করে দেওয়া হয়।

পাসপোর্ট হারানোর কারণে দেশে ফেরার পথ বন্ধ হয়ে গেলে তিনি ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। গত ৩০ জুন ২০২৫ মহেশপুর সীমান্তের একটি বাড়িতে অবস্থানকালে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তাকে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে আটক করে।

পরে ঝিনাইদহের একটি আদালত সেপ্টেম্বর মাসে তাকে এক মাস ২০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষ হলেও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও অন্যান্য জটিলতার কারণে তাকে সঙ্গে সঙ্গে ভারতে পাঠানো সম্ভব হয়নি।

দীর্ঘ প্রায় নয় মাস পর সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলে রোববার দর্শনা চেকপোস্ট দিয়ে তাকে ভারতের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এদিকে পুরো সময়টিতে বাংলাদেশ অ্যামেচার রেডিও অ্যাসোসিয়েশন ফাল্গুনী রায়কে আইনি ও মানবিক সহায়তা প্রদান করেছে বলে জানা গেছে।

আন্তর্জাতিক নারী দিবসের দিন তার দেশে ফেরার ঘটনাটি একদিকে যেমন দীর্ঘ প্রতিকূলতার অবসান ঘটিয়েছে, তেমনি সীমান্তপারের প্রতারণা ও মানবিক সংকটের বিষয়টিও নতুন করে সামনে এনেছে।চ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *