নারীর মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিএনপি অঙ্গীকারবদ্ধ : প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হোসেইন

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি:

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার এম. ইকবাল হোসেইন এমপি বলেছেন, নারীর অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় বিএনপি সবসময় অঙ্গীকারবদ্ধ। নারী ও পুরুষ একসঙ্গে সমানতালে এগিয়ে গেলেই একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

রোববার (৮ মার্চ) আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা অফিসার্স ক্লাবে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে নারীদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা, কর্মসংস্থান, প্রশাসন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং রাজনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীরা তাদের দক্ষতা ও সক্ষমতার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। এই অগ্রযাত্রাকে আরও গতিশীল করতে হলে সমাজের সর্বস্তরে নারীদের জন্য সমান সুযোগ, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে নারী শিক্ষার প্রসার, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছিল।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক নারী দিবসের চেতনায় শিক্ষার্থীদের প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে—কোনো অবস্থাতেই পড়াশোনা মাঝপথে ছেড়ে দেওয়া যাবে না। নারীদের স্বাবলম্বী ও আত্মনির্ভরশীল হতে হলে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই নারী। এই বিপুল জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়ন ছাড়া দেশের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই নারীদের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে নিজেদের যোগ্যতা ও সক্ষমতা প্রমাণ করে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফিয়া আমিন পাপ্পার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুনন্দা সরকার প্রমা, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দিবাকর ভাট, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব হাফেজ মো. আজিজুল হক, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রেহেনা আক্তার খাতুন এবং গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল হাসান।

বক্তারা বলেন,নারীর অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা একটি ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠনের অন্যতম পূর্বশর্ত। এ লক্ষ্যে নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, নারী উদ্যোক্তা ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *