জীবননগর অফিস:-
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ বাজারে বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয়ে ১০ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা যাওয়া বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির হাফেজ মাওলানা মফিজুর রহমান–এর দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
বুধবার (১১ মার্চ) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার সুটিয়া গ্রামে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে তার ভাই হাফিজুর রহমান–এর কবরের পাশে দাফন করা হয়। এর আগে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে দুপুরে মরদেহ তার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
জানাজার নামাজে ইমামতি করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও দামুড়হুদার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাওলানা আজিজুর রহমান। জানাজায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, আলেম-উলামা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর প্রশিক্ষণ সম্পাদক জিয়াউল হক, জীবননগর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা সাজেদুর রহমান, নায়েবে আমির হাফেজ বিল্লাল হোসেন ও সাখাওয়াত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি আবু বক্কর সিদ্দিকী, চুয়াডাঙ্গা জেলা মাজলিসুল মুফাসসিরিন পরিষদের সভাপতি মাওলানা হাফিজুর রহমান, জীবননগর পৌর জামায়াতের আমির ফিরোজ হোসেন এবং সেক্রেটারি ইব্রাহিম খলিলসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ বাজারে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় মফিজুর রহমান গুরুতর আহত হন। ওই সংঘর্ষের জেরে তিনি প্রায় ১০ দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, উপজেলার সুটিয়া গ্রামের জামায়াত সমর্থক কেরামত আলীর ছেলে সোহাগের সঙ্গে হাসাদাহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা জসিম উদ্দীনের ছেলে মেহেদীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধ মীমাংসার জন্য ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে হাসাদাহ বাজারে দুই পক্ষের বৈঠকের কথা ছিল। তবে সন্ধ্যার দিকে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।

এ সংঘর্ষে মফিজুর রহমান, তার বড় ভাই হাফিজুর রহমান, খায়রুল ইসলাম ও সোহাগসহ কয়েকজন আহত হন। আহতদের মধ্যে মফিজুর রহমান ও তার ভাই হাফিজুর রহমানের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় প্রথমে তাদের যশোরে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়।
এর মধ্যে সংঘর্ষের রাতেই রাত প্রায় ২টার দিকে হাফিজুর রহমানের মৃত্যু হয়। পরে ঢাকার কাকরাইলের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার দুপুরে মফিজুর রহমান মারা যান।
অন্যদিকে ওই সংঘর্ষে বিএনপির তিন নেতাকর্মীও আহত হন। তারা হলেন সদ্য বহিষ্কৃত হাসাদাহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান (৪০), তার বাবা জসিম উদ্দিন (৬৫) এবং বাঁকা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম মাস্টার (৫০)।
এ ঘটনায় নিহত হাফিজুর রহমানের ভাই বাদী হয়ে জীবননগর থানায় আটজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৮–৯ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।
এ বিষয়ে জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান সেখ জানান, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘর্ষে হাফিজুর রহমান নিহত হওয়ার ঘটনায় ২ মার্চ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রধান আসামি মেহেদী হাসান ও তার বাবা জসিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত।