জীবননগর হাসাদহে সংঘর্ষে আহত জামায়াত নেতা মফিজুর রহমানের মৃত্যু, জড়িতদের গ্রেপ্তার দাবিতে বিক্ষোভ

জীবননগর অফিস:-
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ বাজারে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের সংঘর্ষে আহত বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির হাফেজ মাওলানা মফিজুর রহমান চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। মঙ্গলবার (তারিখ) দুপুরে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন।
এদিকে মফিজুর রহমান ও তার ভাই হাফিজুর রহমান হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে জীবননগরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে উপজেলা জামায়াতে ইসলামী ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
মঙ্গলবার আসরের নামাজের পর জীবননগর হাইস্কুল প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জীবননগর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তব্য দেন জীবননগর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা সাজেদুর রহমান, উপজেলা নায়েবে আমির সাখাওয়াত হোসেন এবং উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবু বক্কর।


বক্তারা বলেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হাসাদাহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে জামায়াতের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা করা হয়। এতে বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা মফিজুর রহমান ও তার বড় ভাইসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। ওই দিন রাতেই হাফিজুর রহমান মারা যান এবং ১০ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার মফিজুর রহমানেরও মৃত্যু হয়।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার প্রায় ১০ দিন পার হলেও হামলার সঙ্গে জড়িত অধিকাংশ আসামি এখনও গ্রেপ্তার হয়নি। দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে তারা বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বিচার চাই। তবে বিচার না পেলে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জীবননগর উপজেলার সুটিয়া গ্রামের জামায়াত সমর্থক কেরামত আলীর ছেলে সোহাগের সঙ্গে হাসাদাহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা জসিম উদ্দীনের ছেলে মেহেদী হাসানের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। সেই বিরোধ মীমাংসার জন্য ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে হাসাদাহ বাজারে দুই পক্ষের বৈঠকের কথা ছিল। তবে সন্ধ্যার দিকে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়।
সংঘর্ষে মফিজুর রহমান, তার বড় ভাই হাফিজুর রহমান, খায়রুল ইসলাম ও সোহাগ আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের প্রথমে যশোর এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। এর মধ্যে সংঘর্ষের দিন রাত ২টার দিকে হাফিজুর রহমান মারা যান। পরে মঙ্গলবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মফিজুর রহমানের মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে ওই সংঘর্ষে বিএনপির তিনজন নেতাকর্মী আহত হন। তারা হলেন সদ্য বহিষ্কৃত হাসাদাহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান (৪০), তার বাবা জসিম উদ্দিন (৬৫) এবং বাঁকা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম মাস্টার (৫০)।
এ ঘটনায় নিহত হাফিজুর রহমানের ভাই বাদী হয়ে জীবননগর থানায় আটজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৮–৯ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ইতোমধ্যে মেহেদী হাসান ও তার বাবা জসিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে।
এ বিষয়ে জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান সেখ বলেন, আহত মফিজুর রহমান মারা গেছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারির সংঘর্ষে হাফিজুর রহমান নিহত হওয়ার ঘটনায় ২ মার্চ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইতোমধ্যে দুজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *