আবু সাইদ শওকত আলী,ঝিনাইদহ:
খুলনা–মোংলা মহাসড়কে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় বর–কনে সহ একই পরিবারের ১৪ জন নিহত হয়েছেন। বিয়ের আনন্দমুখর পরিবেশে বাড়ি ফেরার পথে মুহূর্তের মধ্যেই নিভে গেছে একটি পরিবারের স্বপ্ন, আশা ও ভবিষ্যৎ। এই দুর্ঘটনায় আরও অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বাগেরহাট জেলার রামপাল উপজেলার বেলাই ব্রিজ এলাকায় নৌবাহিনীর একটি স্টাফ বাসের সঙ্গে যাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাগেরহাটের মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাক তার ছেলে সাব্বিরের বিয়ে সম্পন্ন করে পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের নিয়ে একটি মাইক্রোবাসে করে বাড়ি ফিরছিলেন। গাড়ির ভেতর ছিল বিয়ের আনন্দ, আত্মীয়স্বজনের উচ্ছ্বাস আর নতুন জীবনের স্বপ্ন। কিন্তু রামপাল উপজেলার বেলাই ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা নৌবাহিনীর স্টাফ বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে ঘটনাস্থলেই কয়েকজনের মৃত্যু হয় এবং গুরুতর আহত অবস্থায় আরও কয়েকজনকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বর সাব্বির, কনে মার্জিয়া মিতু (২৫), বরের বাবা আব্দুর রাজ্জাক, মা আঞ্জুমান, বরের ভাই ইমরান ও আলামিন, বরের চাচা সামিউল আলম (৪২), শ্যালিকার দুই মেয়ে পুতুল (২৩) ও ঐশী (২৮), কনের ছোট বোন লামিয়া (১২), কনের নানী (৫৮) এবং মাইক্রোবাসের চালক নাঈম শেখ (৩৬)।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে রামপাল থানা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসনের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া মাইক্রোবাস থেকে হতাহতদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে পাঠান।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে উদ্ধার কার্যক্রম শেষ করে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই পরিবারের এতজন সদস্যের একসঙ্গে মৃত্যুতে স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোক ও বেদনার সৃষ্টি হয়েছে। আনন্দের বিয়ে বাড়ি মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে শোকের মাতমে।