জীবননগর অফিস:-
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার খয়েরহুদা হাইস্কুলপাড়া এলাকায় পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে এক বৃদ্ধা মাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ছেলে ও পুত্রবধূর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বৃদ্ধার স্বামী রহমন আলী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগকারী ভ্যান চালক বৃদ্ধ রহম আলী জানান, তার ছেলে মো: কামাল হোসেন (৪৫) ও পুত্রবধূ রওশনারা খাতুন (৪০) তাদের প্রতি নৈতিক দায়িত্ব পালন না করলেও নানা অজুহাতে তাদের সাথে দুর্ব্যবহার ও অত্যাচার নির্যাতন করে আসছে। এ কারণে তিনি ও তার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভাবে কষ্টে এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে তার লিখিত অভিযোগে জানিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৩(শুক্রবার) সকাল ৯.৪৫ মিনিটের দিকে পারিবারিক একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে কামাল হোসেন তার ছেলে শাহিন উদ্দিনকে মারধর করতে থাকেন। এ সময় শাহিনকে রক্ষা করতে গিয়ে রহম আলীর স্ত্রী ফয়জুল নেছা (৬০) বাধা দিলে ঘটনাস্থলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
অভিযোগে বলা হয়, ওই সময় কামাল হোসেন ও তার স্ত্রী রওশনারা খাতুন একত্রে ফয়জুল নেছার ওপর হামলা চালায়। তারা বাঁশের লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন এবং ইট নিক্ষেপ করে তার মাথা,ঘাড় ও কোমরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেদনাদায়ক নীলাফোলা জখমের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় আহত ফয়জুল নেছাকে উদ্ধার করে দ্রুত জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন।
অভিযোগকারী রহম আলী আরও জানান, কামাল হোসেন তার প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর রওশনারা খাতুনকে দ্বিতীয় বিয়ে করার পর থেকেই পারিবারিক সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়। এরপর থেকেই বিভিন্ন সময় পারিবারিক বিষয়কে কেন্দ্র করে তাদের সাথে দুর্ব্যবহার, হুমকি-ধমকি ও শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটতে থাকে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও বলেন, ছেলে ও পুত্রবধূর এমন আচরণে তারা চরমভাবে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কিত। বয়সের ভারে ন্যুয়ে পড়া তারা স্বামী-স্ত্রী এখন অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
এদিকে ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় কেডিকে ইউনিয়ন পরিষদের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড মেম্বার আব্বাস উদ্দিন বলেন,ঘটনার বিষয়টি আমি লোকমুখে শুনেছি। তবে আমার নিকট কোনপক্ষই আসেনি।ঘটনার ব্যাপারে থানায় লিখিত অভিযোগের কথা শুনেছি।
জীভননগর থানার অফিসার ইনচার্জ সোলায়মান শেখ বলেন,ঘটনার ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।