জীবননগর অফিস:
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার পিয়ারাতলা গোরস্থান মাঠে এক চাষির ড্রাগন ফলের বাগান রাতের আঁধারে কেটে ধ্বংস করার অভিযোগ উঠেছে। দুর্বৃত্তরা বাগানের ১২০০-১৩০০টি গাছ গোড়া থেকে কেটে সাবাড় করা হয়েছে। এতে তার প্রায় পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগী কৃষক রিপন মুন্সীর।
ক্ষতিগ্রস্ত রিপন মুন্সি মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মেম্বার ও পিয়ারাতলা গ্রামের গোলাম মোস্তাফার ছেলে।তিনি বলেন,চার বছর ধরে পরিশ্রম করে গড়ে তোলা বাগানটি এক রাতেই শেষ হয়ে গেল। এটি শুধু আর্থিক ক্ষতি নয়,আমার স্বপ্নও শেষ হয়ে গেছে।
বাগানের কর্মচারী মতিন খান জানান,ক্ষতিগ্রস্ত ড্রাগন বাগানটি সোমবার(১৬ মার্চ) বিকাল সাড়ে ৫ টার সময় দেখাশোনা করে বাড়ীতে যাই এবং মঙ্গলবার(১৭ মার্চ) সকাল ৮টার সময় বাগানে গিয়ে তারা দেখতে পান প্রায় ১২–১৩ কাঠা জমির সব গাছ কেটে ফেলা হয়েছে।পুরো বাগানটাই যেন উজাড় করে দেয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় পূর্ব শত্রুতার বিষয়টি সামনে এসেছে। বাগানের আরেক কর্মচারীর দাবি,কয়েক দিন আগে পিয়ারাতলা ৪ নম্বর ওয়ার্ডের এক যুবক সাব্বির তাকে হুমকি দিয়েছিল। তার ভাষ্য,সাব্বির বলেছিল,রিপন মুন্সি তার মামাকে আটকে রেখেছে—এর ফল খুব দ্রুতই পাবে।
রিপন মুন্সীর অভিযোগ,সাব্বিরের মামা নাজমুলকে সম্প্রতি টাকা লেনদেন সংক্রান্ত ঘটনায় আটক করা হয়েছিল। পরে পরিবারের মাধ্যমে জামিনে মুক্ত হওয়ার পর এই ঘটনার জেরে পরিকল্পিত ভাবে বাগানটি কেটে নষ্ট করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, তার প্রায় ২০ বিঘা জমিতে বিভিন্ন ফলের বাগান রয়েছে,যেখানে প্রতিদিন ৩০–৩৫ জন শ্রমিক কাজ করেন। এ বাগানের ওপর একাধিক পরিবারের জীবন-জীবিকা নির্ভরশীল।ঘটনার বিষয়ে তিনি জীবননগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,পিয়ারাতলা এলাকায় কয়েক’শ বিঘা জমিতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ড্রাগন ফলের চাষ হচ্ছে। ড্রাগনসহ বিভিন্ন ফলের চাষবাদ থেকে চাষিরা আর্থিক ভাবে লাভবান হচ্ছেন। তবে এ ঘটনায় এলাকার অন্যান্য চাষিদের মধ্যেও উদ্বেগ-উৎকন্ঠা দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলাইমান শেখ জানান,তিনি বর্তমানে একটি জরুরি সভায় রয়েছেন। থানায় ফিরে অভিযোগের বিষয়ে কার্যকরি ব্যবস্থা গ্রহন করব।