আবু সাইদ শওকত আলী,বিশেষ প্রতিনিধি:
যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে যশোরে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে। শনিবার (ঈদের দিন) সকাল ৮টায় যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। একই স্থানে সকাল ৯টায় দ্বিতীয় জামাত আদায় করা হয়।
সকাল থেকে বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে জেলার অধিকাংশ স্থানে ঈদগাহের পরিবর্তে মসজিদে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। তবে বিরূপ আবহাওয়া উপেক্ষা করে যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে বিপুল সংখ্যক মুসল্লি অংশ নেন। নামাজ শেষে মুসলিম উম্মাহর শান্তি,দেশের সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পরে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
ঈদের নামাজে অংশ নেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। নামাজের আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক চাপ বিরাজ করছে। এ সংকট মোকাবেলায় সরকার কাজ করছে এবং জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি সবাইকে মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যুদ্ধ শেষ হলেও এর প্রভাব দীর্ঘদিন স্থায়ী হবে। তাই সরকার যেমন প্রস্তুতি নিচ্ছে, তেমনি জনগণকেও সচেতন থাকতে হবে।
এ সময় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ও যশোর পৌরসভার প্রশাসক রফিকুল হাসান, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী এস এম শাহীন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
প্রধান জামাতের খুতবা প্রদান করেন যশোর জেলা ইমাম পরিষদের সাবেক সভাপতি মাওলানা আব্দুল মান্নান। তিনি খুতবায় তাকওয়া, সংযম ও মানবিকতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এছাড়া যশোর শহর ও শহরতলীর ও বিভিন্ন উপজেলার মসজিদে ও ঈদগাহ ময়দানে ঈদের নামাজ উৎসব ও ধর্মীয় গাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়।ঈদের নামাজের জমায়েতে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুসল্লিদের ঢল নামে। নামাজ শেষে সবার মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির এক অনন্য পরিবেশ সৃষ্টি হয়।