আবু সাইদ শওকত আলী,বিশেষ প্রতিনিধি:-
বাগেরহাটে বিশ্ব ঐতিহ্য স্বীকৃত প্রাপ্ত নিদর্শন। একটি হলো সুন্দরবন আরেকটি ষাট গুম্বজ। সুন্দরবন হতে পারে আপনার ঘোরাঘুরি জন্য একটা সুন্দরতম স্থান। এটি বাগেরহাট জেলায় বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে দাড়িয়ে আছে।
মোংলা, মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলায় রয়েছে দারুণ দারুণ সব স্থান। মোড়েলগঞ্জে ইংরেজ জমিদারের কুঠিবাড়ি করমজল, আলীবন্দা, দূবলারচর হতে পারে অন্যতম প্রধান। আরেকটি বিশ্ব ঐতিহ্য স্বীকৃত স্থান হলো ষাটগম্বুজ। হযরত খাজা খানজাহান আলী (রহ.) স্মৃতি বিজড়িত প্রায় ৬০০ বছর আগে এটি নির্মাণ করেন। হযরত খানজাহান আলীর মাজার শরীফ ও দীঘির স্বচ্ছ পানিতে কুমির।
বাগেরহাট জেলার সদর উপজেলায় বাগেরহাট-খুলনা আঞ্চলিক সড়কের পাশে এটি অবস্থিত। মোট ৮১ গম্বুজ বিশিষ্ট এই দৃষ্টিনন্দন মসজিদটিতে রয়েছে কারুকাজ সম্বলিত নানান টেরাকোটা। আছে মসজিদ প্রাঙ্গণে ঘোরাঘুরি সময় কাটানোর জন্য মনোরম পরিবেশ। বসন্তের ফুলের সমরাহের সাথে ষাটগম্বুজ মসজিদ কমপ্লেক্সটি আকর্ষণীয় ও মনোরম। আর এই কমপ্লেক্স এর ভিতরই অবস্থিত বাগেরহাট জাদুঘর। এখানে রয়েছে খানজাহান আলীর (রহ.) মাজারে একটি কুমিরকে মমি করে রাখা।
শুধু ষাটগম্বুজ মসজিদ তার পাশেই রয়েছে এক গম্বুজ বিশিষ্ট সিঙ্গাইর মসজিদ। এটিও ততকালীন সময়ের নির্মাণ করা। ঠিক ষাটগম্বুজ মসজিদের মেইন গেটের বিপরীতেই এটি অবস্থিত।এছাড়াও রয়েছে চুনখোলা মসজিদ, বিবি বেগুনি মসজিদ, এক গম্বুজ মসজিদ,রেজা খোদা মসজিদ।
হযরত খানজাহান আলী রহ: এর মাজার ও ঠাকুর দিঘি বা খানজাহান আলী দীঘি ও হতে পারে আপনার ভ্রমণের জন্য সুন্দর আরেকটি স্থান। এটি ও বাগেরহাট সদর উপজেলার ষাটগম্বুজ মসজিদের অদূরে বাগেরহাট-খুলনা মহাসড়কের পাশে অবস্থিত। হযরত খানজাহান আলী রহ: এর সমাধি স্থল ও তার পাশে দীঘিটি মনোনরম পরিবেশ আপনার মনকে আরো ভালো করে দেবে। সাথে দেখতে পারেন দীঘির ভিতর কুমির ও রংবেরং এর বাহারি মাছ।আর দীঘির পশ্চিম পাড়ে রয়েছে নয় গম্বুজ মসজিদ।
বাগেরহাটে সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নে রয়েছে কুরআনের রিহাল।ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে এই রিহাল অবস্থিত। একটি বজ্রপাতে মৃত গাছকে শৈল্পিক কারুকাজের মাধ্যমে এই কোরানের রিহাল নির্মাণ করা হয়েছে। সৌন্দর্য আরো বাড়িয়ে দিয়ে পাশের তিনতলা বিশিষ্ট মসজিদ এবং ইউনিয়ন চত্বরের বাহারি আকৃতির পাতা বাহারী গাছ।
সদর উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়নে রয়েছে অযুদ্ধার মট।এটি ধারণা করা হয় ১৬ শতাব্দীর অন্যতম একটি নিদর্শন। এই মঠটি ইট দিয়ে তৈরী এবং সাথে রয়েছে কারুকাজ সংবলিত এ মঠটি তলদেশে বর্গাকারে নির্মিত। মঠে ইটের তৈরি প্রাচীর দেখা যায়।
এ প্রাচীরগুলো ৮ ফুট সারে ৭ ইঞ্চি প্রশস্ত। মঠে ব্যবহৃত ইটগুলো বেশ উচ্চ মানের এবং পালিশ করা। ইটগুলোর আয়তন ৬ ইঞ্চি x ৩ ইঞ্চি x ২ ইঞ্চি। ভূমি থেকে মঠটির উচ্চতা প্রায় ৬৪ ফুট ৬ ইঞ্চি। মঠে বিভিন্ন অলঙ্করণও রয়েছে। পোড়ামাটির এ অলঙ্করণগুলো বেশ সুন্দর।

এছাড়াও বাগেরহাট সদর উপজেলায় রয়েছে বিনোদন কেন্দ্র বা পার্ক। বাগেরহাট সদর উপজেলার চুলকাঠি রয়েছে চন্দ্রমহল। এখানে রয়েছে মিনি চিড়িয়াখানা যেখানে রঙবেরঙে ও নানা প্রজাতির পশু পাখি। এছাড়াও এখানে রয়েছে বিভিন্ন অবয়ব নির্মাণ করা।পানির নিচ থেকে রয়েছে চলাচলের পথ। রয়েছে একটি মহল।মহলে রয়েছে বিভিন্ন পুরনো দিনের নিদর্শন।বাগেরহাট-খুলনা আঞ্চলিক সড়কের পাশে রয়েছে বারাকপুর পার্ক ও দশানী পার্ক।এখানে রয়েছে মিনি চিড়িয়াখানা যেখানে রঙবেরঙে ও নানা প্রজাতির পশু পাখি। এছাড়াও এখানে রয়েছে বিভিন্ন অবয়ব নির্মাণ করা।তাছাড়া রয়েছে বিভিন্ন রাইডস্।
শরণখোলার বলেশ্বর নদীর পাড়ে গড়ে উঠেছে রিভারভিউ ইকোপার্ক। যেখানে গেলে আপনাকে দিবে কক্সবাজারের মতো অনুভূতি। রয়েছে বসে গল্প করার মতো জায়গা।আছে ছবি তোলার মতো মনোরম সব স্থান এছাড়াও রয়েছে মোংলা বন্দর,দড়টানা সেতু, বাগেরহাট পৌর পার্ক,মুনিগঞ্জ সেতু,ড্রামের ভাসমান সেতু,ফকিরহাটের জোড়া শিব মন্দির, লাউপালার রথ মন্দির, যাত্রাপুরের ডিসি ইকোপার্ক সহ আরো অনেক দর্শনীয় স্থান। যেগুলো আপনার ঈদের আনন্দ আরো কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিবে।