জীবননগর রায়পুরে ব্যবসায়ীকের গোডাউনে রহস্যজনক আগুন, কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ

জীবননগর অফিস:

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার রায়পুরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক ব্যবসায়ীর গোডাউনে পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রায় কোটি টাকার মালামাল পুড়ে গেছে বলে দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের।

প্রতিপক্ষরা পরিকল্পিত ভাবে আগুন লাগিয়েছে দাবি করা হলেও ফায়ার সার্ভিস বলছেন বৈদ্যুতিক সর্ট সার্কিটের ফলে আগুনের সুত্রপাত ঘটেছে।ঘটনাটি বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সংঘটিত হয়েছে।এদিকে রহস্যজনক এ আগুনকে ঘিরে এলাকায় নানাজনের নানা মন্তব্য শোনা গেছে।

 জীবননগর উপজেলার রায়পুর ঈদগাহপাড়ার ভুক্তভোগী রুহুল কুদ্দুসমোল্যা(৭০)লিখিত অভিযোগে জানান,তিনি দীর্ঘদিন ধরে একই এলাকার কয়েকজনের সাথে তার জমি-জমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল।এই বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষরা তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য পরিকল্পিত ভাবে নানা ষড়যন্ত্র করে আসছিল।

এদিকে বুধবার(২৫ মার্চ)সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে প্রতিপক্ষরা পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী তার বসতবাড়ির উত্তর-পশ্চিম কোণে অবস্থিত ‘মোল্যা নার্সারি’র ব্যবসায়িক গোডাউনে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়। এতে গোডাউনে থাকা বিপুল পরিমাণ মালামাল সম্পূর্ণরূপে পুড়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত মালামালের মধ্যে রয়েছে-জিও ব্যাগ (প্রায় ৪০ লাখ টাকা), প্লাস্টিকের বস্তা (১০ লাখ টাকা), কীটনাশক (৮ লাখ টাকা), নেট বস্তা, ঢপ ও ক্যারেট (১০ লাখ টাকা), চার্জার স্প্রে মেশিন (৬০ হাজার টাকা), সেড নেট (৩ লাখ টাকা) এবং সার (৩ লাখ টাকা)সহ অন্যান্য সামগ্রী। সব মিলিয়ে মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৭৪ লাখ টাকারও বেশি বলে দাবি করা হয়েছে।

ঘটনার সময় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরে জীবননগর ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে গোডাউনের প্রায় সব মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

এদিকে, অভিযোগে আরও বলা হয়েছে যে, অভিযুক্তদের মধ্যে কবির হোসেন ও রেখা খাতুনকে ঘটনাস্থলের পাশের খাল পার হয়ে পালিয়ে যেতে দেখেছেন স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী।

ভুক্তভোগী রুহুল কুদ্দুস মোল্যার ছেলে হৃদয় হোসেন মোল্যার দাবি, এটি কেবল অগ্নিসংযোগের ঘটনা নয়; বরং তাদেরকে আর্থিক ভাবে ধ্বংস করার পাশাপাশি হত্যার একটি সুপরিকল্পিত চেষ্টা। এ ঘটনার সাথে এলাকার বাবর আলী,শরিফ,আলিম,রেখা ও কবির হোসেন জড়িত বলে তার দাবি।তিনি আরো বলেন,বাবর আলীর সাথে আমাদের জমি-জমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে।

অভিযুক্ত বাবর আলীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,আমরা যার যার জায়গায় নিজেদের কাজে ব্যস্ত থাকলাম,তাহলে সেখানে আগুন দিতে গেলাম কি ভাবে? আসলে আমাদেরকে ফাঁসিয়ে ফাঁয়দা লুটার চেষ্টা করা হচ্ছে।

জীবননগর ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার তুষার হোসেন বলেন,বৈদ্যুতিক সর্ট সার্কিটের কারণে আগুনের সুত্রপাত হয়েছে।ক্ষয়ক্ষতি পরিমান এক লক্ষ টাকা এবং উদ্ধার মালামালের মুল্য দশ লাখ টাকা।

রায়পুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফি বলেন,ভুক্তভোগীদের দাবি তাদের ব্যবসার গোডাউনে পরিকল্পিত ভাবে আগুন লাগানো হয়েছে। আমরা শুনেছি,আমরা তো আর ঘটনাস্থলে ছিলাম না,তাহলে কারা দিয়েছে কি ভাবে বলব?

এ ব্যাপারে জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ সোলায়মান শেখ বলেন,ঘটনার ব্যাপারে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে।ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে অভিযোগ সত্য হলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *