জীবননগর রায়পুরে ধর্ষণ চেষ্টা মামলার আসামি গ্রেফতার,আগুনের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

জীবননগর অফিস:

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নে ধর্ষণ মামলার এক আসামিকে গ্রেফতারের পর একটি গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অবশেষে থানায় মামলা হওয়াকে কেন্দ্র করে এলাকায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।যে কোন সময় অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা এলাকাবাসীর।মিথ্যা মামলার ঘটনায় বৃহস্পতিবার(২৬) দুপুর দুইটার এক সংবাদ সম্মেলন শহরের থ্রি-স্টার হোটেলের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রায়পুর ঈদগাহপাড়া এলাকায় অবস্থিত ’মোল্যা নার্সারির মালিক রুহুল কুদ্দুস মোল্যার ছেলে সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে নার্সারির নারীকর্মী রেখা খাতুন ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন।সেই মামলায় পুলিশ বুধবার(২৫ মার্চ) সকালে তাকে বাড়ি থেকে গ্রেফতার করেন।

গ্রেফতারের আগে একই দিন সকালে অভিযুক্তদের বাড়ির পাশে থাকা একটি গোডাউনে আগুনের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গোডাউন মালিক রুহুল কুদ্দুস মোল্যা দাবি করেন,কিছু ব্যক্তি পরিকল্পিত ভাবে আগুন লাগিয়ে প্রায় ৭৪ লাখ টাকার ক্ষতি করেছে। এ অভিযোগে তিনি রেখা খাতুনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে জীবননগর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

তবে জীবননগর ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে,বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়,এ ঘটনায় এক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে দশ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি দাবি করেছেন,অভিযুক্ত সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে পূর্বেও নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। তাদের অভিযোগ,ধর্ষণ মামলার চাপ থেকে মুক্তি পেতে এবং প্রতিপক্ষকে হয়রানি করতে তাদের গোডাউনে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটে আগুনের ঘটনায় মিথ্যা মামলা দায়ের করা হচ্ছে।

আগুনের ঘটনায় মামলার অভিযুক্ত রেখা খাতুন,কবির হোসেন,আব্দুল আলিম,বাবর আলী ও শরিফ উদ্দিন ২৬ মার্চ দুপুর দুইটার অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলেন,সাদ্দাম হোসেনকে ধর্ষণের চেষ্টা মামলা থেকে রক্ষা করতে তার পিতা রুহুল কুদ্দুস মোল্যা গোডাউনের আগুনের ঘটনাকে পুঁজি করে তা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে তাদের নামে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে।

অন্যদিকে অভিযুক্ত পক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে,আগুনের ঘটনা পরিকল্পিত নাশকতা এবং এতে তাদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। আগুনের ঘটনায় যাদেরকে সাক্ষী মানা হয়েছে,তাদের সকলের দাবি ঘটনার ব্যাপারে আমরা কোন কিছু দেখিনি,তাহলে আমরা কি বলতে পারি?

জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ সোলায়মান শেখ বলেন,ঘটনার ব্যাপারে মামলা হয়েছে এবং মামলাটি তদন্তাধীন। তবে মামলায় কেউ জড়িত না থাকলে তাকে গ্রেফতার করা হবে না। উভয়পক্ষের অভিযোগই খতিয়ে দেখে হচ্ছে।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *