পদ্মায় ফেরিঘাটে বাস ডুবি: শৈলকুপার চিকিৎসক সুমা ও শিশু পুত্রসহ বহু হতাহত, সাভারে দাফন

আবু সাইদ শওকত আলী,বিশেষ প্রতিনিধি:
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে মর্মান্তিক বাস দুর্ঘটনায় ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার এক মা ও তাঁর শিশু পুত্রসহ বহু যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন শৈলকুপার খন্দকবাড়িয়া গ্রামের নুরুজ্জামান বিশ্বাসের স্ত্রী আয়েশা আক্তার সুমা (৩০) এবং তাঁদের শিশু পুত্র আর্শান জামান (৭)। দুর্ঘটনায় নিহত মা ও সন্তানের দাফন সাভারের আশুলিয়ার নয়ারহাট এলাকায় পারিবারিক কবরস্থানে সম্পন্ন হয়েছে।

জানা যায়, বুধবার (বিকাল) কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস প্রায় ৫০ জন যাত্রী নিয়ে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পৌঁছায়। বিকাল আনুমানিক ৪টার দিকে ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি সরাসরি পদ্মা নদীতে পড়ে ডুবে যায়।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঈদ উদযাপন শেষে নুরুজ্জামান বিশ্বাস তাঁর স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে ঢাকার আশুলিয়ায় কর্মস্থলে ফিরছিলেন। তবে ফেরিঘাটে পৌঁছে নুরুজ্জামান ও তাঁদের ৪ বছর বয়সী কন্যা বাস থেকে নেমে যাওয়ায় তারা প্রাণে বেঁচে যান। কিন্তু মুহূর্তেই ঘটে যায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।

উদ্ধারকারী জাহাজ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গভীর রাতে বাসটি উদ্ধার করে। পরে ডুবুরিরা রাত ২টার দিকে আয়েশা আক্তার সুমা এবং রাত ৩টার দিকে তাঁর শিশু পুত্র আর্শান জামানের মরদেহ উদ্ধার করেন। উদ্ধার শেষে মরদেহ আশুলিয়ায় নেওয়া হয় এবং সেখানেই তাঁদের দাফন সম্পন্ন হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে থাকা যাত্রীদের মধ্যে মাত্র ৮ থেকে ১০ জন সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যাঁদের অধিকাংশই কুষ্টিয়া ও রাজবাড়ী জেলার বাসিন্দা।

নিহত আয়েশা আক্তার সুমা পেশায় একজন চিকিৎসক ছিলেন এবং সাভারের সিআরপি হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। এ দুর্ঘটনায় বাসচালক আরমান খান (৩১)ও নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তাঁর বাড়ি রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলায়।

এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়। স্বজন হারানোর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। দুর্ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগও দেখা দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *