আবু সাইদ শওকত আলী,বিশেষ প্রতিনিধি:-
যেনো এক ঝাঁক গুণী মানুষের পদচারণা। ঐতিহ্যবাহী সংগঠন উদীচীর কেন্দ্রীয়, বিভাগ ও কয়েকটি জেলা সংসদের নেতৃবৃন্দের একাট্টা ভালবাসায় সিক্ত হলো মাগুরার অজপাড়া গায়ের দেওয়ান পরিবার। উদীচীর বর্ষীয়ান যোদ্ধা ওস্তাদ শরীফ শাহ দেওয়ান আল মেহেদীর আঙিনা শ্রদ্ধায় সিক্ত হলো। গুণী মানুষেরাই কদর জানে অপর একজন গুণীর। তাও প্রমাণ করলেন উদীচীর নেতৃত্বাস্থানীয় হাস্যোজ্জ্বল গুণী মানুষগুলো। জীবন সায়াহ্নে চলে আসা প্রিয় অগ্রজ সহযোদ্ধা শরীফ শাহ দেওয়ানকে সম্মান জানাতে উদীচীর সংগ্রামী প্রতিষ্ঠাতা সত্যেন সেনের ১১৯ তম জন্মজয়ন্তি অনুষ্ঠান করা হলে দেওয়ানজীর মাগুরার শালিখা উপজেলার বগুড়া গ্রামের বাড়িতে।
২৮ মার্চ দুপুরে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয় বিপ্লবী সাহিত্যিক ও উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা সত্যেন সেনের সংগ্রামী জীবন এবং সেই সাথে স্মরণ করা হল যশোরে উদীচীর ট্রাজেডিতে বেঁচে যাওয়া যোদ্ধা সংগীতগুণী শরীফ শাহ দেওয়ানকে। ঘরোয়া আয়োজন অথচ বিশাল ব্যাপ্তির এ অনুষ্ঠানে সত্যেন সেনের জীবনী তুলে ধরে বলেন, অন্যায় অত্যাচার শোষন ও অপশাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনকে বেগবান করতে সত্যেন সেন যে পথ দেখিয়ে গেছেন, তা আজও প্রাসঙ্গিক। পাশাপাশি উদীচীর পথচলায় ওস্তাদ শরীফ শাহ দেওয়ানের ত্যাগ ও অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে উদীচী নেতৃবৃন্দ বলেন প্রতিকুল পরিবেশেও শরীফ শাহ দেওয়ান আল মেহেদী যশোর মাগুরাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সাংস্কৃতিক মশালটি জ্বালিয়ে রেখেছেন সত্যেন সেনের আর্দশ বুকে ধারণ করেই।
উদীচীর খুলনা বিভাগীয় সংসদের আয়োজনের এবং মাগুরা সিংড়া শাখা সংসদের ব্যবস্থপনায় দেওয়ানজীন আঙিনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় সংসদের আহ্বায়ক ও ঝিনাইদহ জেলা উদীচীর সভাপতি কে.এম শরিফুল ইসলাম, উদীচী খুলনা বিভাগীয় সংসদের সদস্য সচিব ও মাগুরা উদীচীর সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী, উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সদস্য সুখেন রায়, মাগুরা উদীচীর উপদেষ্টা কাজী তারিফুজ্জামান, উদীচী নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা গোবিন্দ প্রসাদ মজুমদার, মাগুরা ও উদীচীর যুগ্ম সম্পাদক কল্যাণী রাণী বিশ্বাস,কুষ্টিয়া উদীচী নেতা গোলাম রব্বানী, উদীচী সিংড়া শাখা সংসদের সভাপতি নৃপেন্দ্রনাথ রায়, সহসভাপতি প্রবীর কুমার চক্রবর্তী, সহসাধারণ সম্পাদক পিন্টু বিশ্বাস, খুলনা উদীচীর আব্দুল হালিম, মাগুরা উদীচী পলাশ ঘোষ, ভবেশ চন্দ্র বিশ্বাস, উদীচী নেতা মনোজ কুমার সেন, কামরুজ্জামান প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
কেন্দ্রীয় উদীচীর সদস্য সুখেন রায় বলেন, উদীচীর খুলনা বিভাগের বর্ষীয়ান সহযোদ্ধা শরীফ শাহ দেওয়ান কর্মী ও শালিকা উপজেলা উদীচীর সাবেক সভাপতি শরীফ শাহ দেওয়ানকে নিয়ে আলোচনা আসলেই উঠে আসে ১৯৯৯ সালের সেই ভয়াবহ স্মৃতি। ওই বছরের ৬ মার্চ যশোরের টাউন হল মাঠে উদীচীর জাতীয় সম্মেলনে যখন বোমা হামলা চালানো হয়, শরীফ শাহ দেওয়ান আল মেহেদী তখন মঞ্চে গান গাইছিলেন। সেই নৃশংস হামলার
প্রত্যক্ষদর্শীও তিনি। কীভাবে তিনি জীবন ও মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরেছিলেন। সেই বিভীষিকাময় স্মৃতি স্মরণ করে অনুষ্ঠানে শরীফ দেওয়ান বলেন সাংস্কৃতিক কর্মীদেও স্তব্ধ করতেই সেদিন হামলা চালানো হয়েছিল, কিন্তু উদীচী আদর্শ থেকে এক চুলও বিচ্যুত হয়নি। সত্যেন সেনের আদর্শে অসাম্প্রদায়িক ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে উদীচী আরো এগিয়ে যাবে এ আশাাদ ব্যক্ত করেন তিনি বলেন সুস্থ সংস্কৃতিই হোক সকল অপশক্তির বিরুদ্ধে হাতিয়ার।
উদীচী নেতৃবৃন্দ বঞ্চনা ও শোসনের বিরুদ্ধে আজীবন সংগ্রামী সত্যেন সেনের জন্মবার্ষিকীতে বর্ষীয়ান সংগীতগুনী শরিফ শাহ দেওয়ান মেহেদীকে প্রতিকী ধরে মিষ্টিমুখ করান। নেতৃবৃন্দ সেই ১৯৯৯ সালের ৬ মার্চে ফিরে যান। এক নস্টালজি আবেগঘন পরিবেশের অবতারণা করেন। শরীফ দেওয়ানের কর্মময় জীবন আলোচিত হয়। এসময় উদীচী নেতৃবৃন্দের প্রতি প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন শরীফ শাহ দেওয়ানের বড় ছেলে যশোর জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক গ্রামের কাগজের সহযোগী সম্পাদক দেওয়ান মোর্শেদ আলম ও ছোট ছেলে চিত্রশিল্পী সেলিম রেজা বুলবুল।