চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি:
জেলায় জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুদ নিশ্চিত করা, সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা এবং বিপণনে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২৯ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১ টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান। এছাড়াও জেলা প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিজিবির প্রতিনিধি, জ্বালানি তেল পাম্প মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ, কৃষক প্রতিনিধি, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের সদস্য এবং স্থানীয় সাংবাদিকরা অংশ নেন।
সভায় জেলার বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। পাম্পগুলোতে বিদ্যমান ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের মজুদের পরিমাণ, চাহিদা ও সরবরাহের সম্ভাব্য ভারসাম্য এবং ভবিষ্যৎ চাহিদা মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়।
আলোচনায় উঠে আসে, কোনো অসাধু চক্র যাতে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাজার অস্থির করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি জোরদার করা হবে। এ লক্ষ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত তদারকি এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানানো হয়।
সরকার নির্ধারিত মূল্যে জ্বালানি তেল বিক্রি নিশ্চিত করা, মানসম্মত ও সঠিক পরিমাপ বজায় রাখা এবং ভোক্তা স্বার্থ রক্ষায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম আরও জোরদারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জ্বালানি তেলের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন পরিবহন নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়। একইসঙ্গে পাম্পগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, জ্বালানি তেল কৃষি ও পরিবহন খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো ধরনের বিঘ্ন যেন না ঘটে, সে জন্য প্রশাসনের তদারকি আরও বাড়ানো হবে। অনিয়ম বা কালোবাজারির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ সুপার বলেন, জ্বালানি তেলের পরিবহন ও বিপণনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বদা সতর্ক রয়েছে এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত।
সভায় পাম্প মালিক ও ডিলারদের উদ্দেশ্যে বক্তারা বলেন, আসন্ন সেচ মৌসুম ও উৎসবকালকে সামনে রেখে জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা অত্যন্ত জরুরি। এ বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
সরকারি ও বেসরকারি সকল পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে জেলার জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে সভা সমাপ্ত হয়