আবু সাইদ শওকত আলী,বিশেষ প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহের রাজনীতিতে ত্যাগ, সংগ্রাম ও দৃঢ় নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে পরিচিত তহুরা খাতুন এবার জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন। সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও বর্তমানে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ঝিনাইদহ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী এই নেত্রীকে ঘিরে দলীয় তৃণমূলে সৃষ্টি হয়েছে নতুন উদ্দীপনা ও প্রত্যাশা।
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় নানা প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে তহুরা খাতুন নিজেকে একজন আপসহীন ও নিবেদিতপ্রাণ নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, গত ১৭ বছরে তিনি রাজনৈতিক হয়রানি ও একাধিক গায়েবি মামলার শিকার হয়ে বছরের পর বছর আদালতে ঘুরেছেন। তবুও তিনি থেমে থাকেননি—রাজপথেই থেকেছেন সক্রিয়।
১৯৯৮ সালে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার দোগাছি ইউনিয়ন মহিলা দলের সভানেত্রী হিসেবে তার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু। এরপর ধাপে ধাপে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পাড়া-মহল্লায় নারী কর্মীদের সংগঠিত করে ঝিনাইদহে মহিলা দলকে একটি সুসংগঠিত শক্তিতে রূপান্তর করেছেন তিনি।
স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মতে, তার নেতৃত্বে মহিলা দল শুধু সাংগঠনিকভাবেই শক্তিশালী হয়নি, বরং আন্দোলন-সংগ্রামেও দৃশ্যমান ভূমিকা রেখেছে। ঝিনাইদহ পৌর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শামিমা সুলতানা ইতি বলেন, “সংরক্ষিত নারী আসনে তহুরা খাতুনকে মনোনয়ন দিলে দল আরও সুসংগঠিত হবে এবং এলাকার উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।”
হরিনাকুন্ডু উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সেলিনা খাতুনের ভাষ্য, “তহুরা খাতুন একজন পরীক্ষিত ও নিবেদিত নেতা। তার নেতৃত্বে মহিলা দল শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়েছে। তাকে মনোনয়ন দেওয়া হলে তা তৃণমূলের যথার্থ মূল্যায়ন হবে।”
কোটচাঁদপুরের নেত্রী নাসিমা খাতুন বলেন, “জেলায় তার মতো শক্তিশালী নারী নেতৃত্ব এখনো গড়ে ওঠেনি। নির্যাতন ও মিথ্যা মামলার শিকার হয়েও তিনি দল ছাড়েননি—এখন তাকে মূল্যায়নের সময়।”
মহেশপুর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নার্গিস সুলতানা দীপা বলেন, “দলের দুঃসময়ে তহুরা খাতুনই মহিলা দলের হাল ধরেছিলেন। উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচনে জয়লাভ করে তিনি তার জনপ্রিয়তা প্রমাণ করেছেন।”
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি একজন দায়িত্বশীল পরিবারের অভিভাবক। তার স্বামী অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন, যিনি নিজেও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। এক ছেলে ও এক মেয়ের জননী তহুরা খাতুন পরিবার ও রাজনীতি—দুই ক্ষেত্রেই সফলভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি সাংবাদিকদের সঙ্গে তার রয়েছে আন্তরিক সম্পর্ক। সাংবাদিকবান্ধব নেত্রী হিসেবে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের কাছেও তিনি সুপরিচিত। বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে তিনি সবসময় খোলামেলা ও সহযোগিতামূলক মনোভাব প্রদর্শন করে আসছেন।
ঝিনাইদহ সদর থানা মহিলাদলের আহ্বায়ক আনোয়ারা বেগম ও শৈলকুপার নেত্রী রোখসানা আক্তার পুল জানান, সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু হলে তহুরা খাতুন অন্যতম দাবিদার হিসেবে বিবেচিত হবেন। তৃণমূল নেতাকর্মীদের বিশ্বাস, তাকে মনোনয়ন দেওয়া হলে ঝিনাইদহের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং নারী নেতৃত্বের বিকাশে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে যারা মাঠে সংগ্রাম করেছেন, তাদেরই মূল্যায়ন হওয়া উচিত। সংরক্ষিত নারী আসনে কোনো ভুঁইফোড় নেতৃত্ব নয়, বরং ত্যাগী নেত্রীদেরই জায়গা দেওয়া প্রয়োজন।” তিনি আরও জানান, “তহুরা খাতুনসহ কয়েকজন নেত্রী রাজপথে থেকে মহিলা দলকে শক্তিশালী করেছেন—দলে তাদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”তৃণমূলের প্রত্যাশা—দলের এই পরীক্ষিত নেত্রী এবার প্রাপ্য স্বীকৃতি পাবেন।