অপুদাস,ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহে চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে ডিজেল সংকট ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে। জেলায় প্রায় ৯০ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদকৃত ধানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। জ্বালানি তেলের চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় প্রকৃত কৃষকরা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।
জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহে মোট ৩৬টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১৬টি, শৈলকূপায় ৫টি, হরিণাকুন্ডুতে ১টি, কালীগঞ্জে ৮টি, কোটচাঁদপুরে ৩টি এবং মহেশপুরে ৩টি স্টেশন রয়েছে। সংকট শুরুর পর থেকেই এসব স্টেশনে ডিজেলের জন্য দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গুজবের কারণে অনেকেই প্রয়োজনের অতিরিক্ত ডিজেল সংগ্রহ করছেন। কেউ কেউ দিনে দুই থেকে তিনবার তেল নিচ্ছেন, আবার অনেকে প্রয়োজন না থাকলেও মজুদ করছেন। পাশাপাশি কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃষক সেজে তেল সংগ্রহ করে বেশি দামে বিক্রি করছেন, যা কৃত্রিম সংকটকে আরও তীব্র করে তুলছে।
ঝিনাইদহের পোড়াহাটি এলাকার এক ফিলিং স্টেশন মালিক জানান, আগে যেখানে দৈনিক ৪ থেকে ৫ হাজার লিটার ডিজেল বিক্রি হতো, বর্তমানে তা তিন গুণের বেশি বেড়েছে। তার মতে, এই অস্বাভাবিক চাহিদার পেছনে মূল কারণ গুজব।
অন্যদিকে বিষয়খালীর একটি ফিলিং স্টেশনের মালিক বলেন, বাস্তবে বড় কোনো সরবরাহ সংকট নেই। বরং সরবরাহ আগের তুলনায় বেড়েছে। তবে গুজবের কারণে বাজারে চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ জানান, জেলায় ডিজেল সরবরাহ বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং সার্বক্ষণিক তদারকি চালানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে ১৭টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ১১টি ফিলিং স্টেশনকে জরিমানা করা হয়েছে। সংকট নিরসনে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলে তিনি জানান।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং কৃষকরা প্রয়োজনীয় জ্বালানি পেতে সক্ষম হবেন।