কোটচাঁদপুরে স্কুলছাত্রী অপহরণ: পাচা’রের আশঙ্কায় পরিবার,থানায় অভিযোগ

আবু সাইদ শওকত আলী,বিশেষ প্রতিনিধি:

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে প্রকাশ্য দিবালোকে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। নিখোঁজ ছাত্রীকে জোরপূর্বক বিয়ে কিংবা পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে পাচার করে দেওয়ার আশঙ্কায় চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে তার পরিবার। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের নাম উল্লেখ করে কোটচাঁদপুর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
পারিবারিক ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে,উপজেলার জয়দি’ য়া গ্রামের সৈয়দ কামরুল ইসলাম ও মোছাঃ রোকসানা খাতুন দম্পতির মেজো মেয়ে সৈয়দা সোহানা ইসলাম (১৫) স্থানীয় এন.বি.জে. মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। রবিবার (৫ এপ্রিল) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে সে বাড়ি থেকে প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশ্যে বের হয়। যথাসময়ে বাড়িতে ফিরে না আসায় স্বজনরা তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
​প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় দুই সাক্ষীর বরাতে জানা যায়, সোহানা বাড়ি থেকে বের হয়ে ঈদগাহ মাঠের কাছে পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা হেলমেট পরিহিত তিন ব্যক্তি তাকে ঘিরে ধরে। তারা দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে কিশোরীর মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে তুলে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে।পরিবারের দাবি,এই অপহরণের মূল পরিকল্পনাকারী ও বাস্তবায়নকারী হিসেবে মহেশপুর উপজেলার ভৈরবা গ্রামের তিন যুবক জড়িত। তারা হলেন: আব্দুল্লাহ (২২) ​সাইফুল বিশ্বাস (৪৪) ​আঃ রহিম (১৯)মেয়ের কোনো সন্ধান না পেয়ে ভেঙে পড়েছেন মা রোকসানা খাতুন। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন:“আমার মেয়েটি এখনো অপ্রাপ্তবয়স্ক। তাকে জোর করে বিয়ে দেওয়া হতে পারে কিংবা মারধর করা হতে পারে। এমনকি তাকে ভারতে পাচার করে দেওয়ার মতো বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছি আমরা। আমরা এখন চরম আতঙ্কের মধ্যে আছি এবং দ্রুত আমার সন্তানকে ফিরে পেতে চাই।”
ঘটনাটি নিশ্চিত করে কোটচাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানান:“স্থানীয় এক শিক্ষকের মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার খবর আমরা পেয়েছি। আজ মেয়েটির পরিবারের পক্ষ থেকে অপহরণের একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছি। নিখোঁজ ছাত্রীকে উদ্ধার এবং অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
​এদিকে দিনদুপুরে স্কুলছাত্রী অপহরণের ঘটনায় জয়দিয়া গ্রামসহ পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত এই কিশোরীকে উদ্ধার এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *