জ্বালানি নিরাপত্তায় ‘ইলেকশন পেন’:কালোবাজারি রুখতে সা’ধারণ জনতার অভিনব প্রস্তাব

আবু সাইদ শওকত আলী,বিশেষ প্রতিনিধি:

​দেশের জ্বালানি খাতে চলমান অস্থিরতা এবং তেল মজুতদার’দের দৌরাত্ম্য থামাতে এবার সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে এক ব্যতিক্রমী দাবি উঠে এসেছে। স্থানীয় ফিলিং স্টেশনগুলোতে পেট্রোল, অকটেন বা ডিজেল ক্রয়ের সময় ভোটারদের আঙুলে ব্যবহৃত সেই বিশেষ ‘মার্কার পেন’ বা অমোচনীয় কালি ব্যবহারের প্রস্তাব দিচ্ছেন সচেতন নাগরিকরা। তাঁদের মতে, স্থানীয় প্রশাসন ও ডিলারদের সমন্বয়ে এই উদ্যোগ নিলে একই ব্যক্তির বারবার তেল সংগ্রহ করে কালোবাজারি করার পথ চিরতরে বন্ধ হবে।

​সাধারণ ভোক্তাদের দাবি, অনেক সময় অসাধু চক্র বারবার লাইনে দাঁড়িয়ে বা বিভিন্ন যানবাহনের দোহাই দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল সংগ্রহ করে পরে তা চড়া দামে অবৈধভাবে বিক্রি করে। এতে সাধারণ চালকরা চাহিদামতো তেল পাচ্ছেন না।
​এই বিষয়ে মাঠপর্যায়ের মানুষের বক্তব্যগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
​”নির্বাচনে যেমন একজন ব্যক্তি একবার ভোট দিলে আঙুলের কালিতে ধরা পড়ে যান, তেমনি তেল কেনার পর হাতে চিহ্ন থাকলে একই ব্যক্তি ওইদিন বা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আর তেল তুলতে পারবেন না। এতে তেলের সুষম বণ্টন নিশ্চিত হবে।”অনেক ভুক্তভোগী মোটরসাইকেল চালক।

​”রাতের আঁধারে ড্রাম ভরে তেল সরিয়ে ফেলার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, স্থানীয় প্রশাসনের তদারকিতে এই কালির ব্যবহার শুরু হলে সেই চক্র ভেঙে পড়বে। ডিলাররা চাইলেও তখন হিসেবে কারচুপি করতে পারবে না।”
​”আমরা চাই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যে উন্নত মানের মার্কার পেন ব্যবহার করা হয়েছিল, ঠিক সেই কলমই ফিলিং স্টেশনগুলোতে দেওয়া হোক। এতে জালিয়াতির সুযোগ থাকবে না।”

​জনসাধারণের দাবির প্রেক্ষিতে এই পদ্ধতির একটি সম্ভাব্য রূপরেখা নিচে দেওয়া হলো:

উপকরণ নির্বাচন কমিশন অনুমোদিত অমোচনীয় কালি (Indelible Ink)।
প্রয়োগস্থল প্রতিটি স্থানীয় নিবন্ধিত ফিলিং স্টেশন। তদারকি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (UNO) ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন।
লক্ষ্য এক ব্যক্তি বা এক লাইসেন্সের অধীনে নির্দিষ্ট সীমার বেশি তেল উত্তোলন রোধ।

​জ্বালানি সংকট নিরসনে কেবল আমদানির ওপর নির্ভর না করে অভ্যন্তরীণ বণ্টন ব্যবস্থায় কঠোর হওয়া জরুরি। সাধারণ জনতা মনে করছেন, স্থানীয় প্রশাসন যদি ডিলারদের সাথে বসে এই ‘ইলেকশন পেন’ থিওরি কাজে লাগায়, তবে তেল নিয়ে লুকোচুরি বন্ধ হবে। এটি কেবল একটি কালির দাগ নয়, বরং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের একটি বলিষ্ঠ প্রতিরোধ হিসেবে কাজ করতে পারে।
​”প্রশাসন যদি সদিচ্ছা দেখায়,তবে একটি কলমের দাগই পারে তেলের বাজারের বিশৃঙ্খলা থামিয়ে দিতে।” — সাধারণ জনতার সম্মিলিত অভিমত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *