আবু সাইদ শওকত আলী,বিশেষ প্রতিনিধি:-
ডিজিটাল বাংলাদেশের আলো যখন ঘরে ঘরে, তখন ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বড় বামনদহ এলাকায় কয়েকটি অসহায় পরিবার গত দুই বছর ধরে অন্ধকারের সাথে লড়াই করছে। ধার-দেনা করে মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে বসতভিটা গড়লেও, শুধুমাত্র একটি বিদ্যুৎ সংযোগের অভাবে চরম অনিশ্চয়তা আর আতঙ্কে কাটছে তাদের দিনরাত।(৯ এপ্রিল) বৃহস্পতিবার সকালে অনুসন্ধানে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ সূত্রে জানাযায় দ্বারে দ্বারে ঘুরেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত বিদ্যুৎ সংযোগ। অথচ তাদের বাড়ি থেকে নিকটস্থ বৈদ্যুতিক খুঁটির দূরত্ব মাত্র ১৫০ ফুট। অন্যদিকে, একই এলাকায় প্রভাবশালীদের ক্ষেত্রে অনেক বেশি দূরত্বেও সংযোগ দেওয়ার নজির থাকলেও, এসব হতদরিদ্র মানুষের বেলায় ‘দূরত্বের অজুহাত’ দেখিয়ে ফাইল আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে বিদ্যুৎ অফিসের বিরুদ্ধে।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বড় বামনদহ এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা মোঃ ফিরোজ ইসলাম, মোঃ আব্দুল গফুর, মোঃ আমিরুল ইসলাম ও মোঃ সেলিম হোসেনের পরিবারগুলো মানবেতর জীবনযাপন করছে। পেশায় তারা সবাই দিনমজুর। সারাদিন হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রমের পর রাতে একটু স্বস্তিতে ঘুমানোর সুযোগ নেই তাদের। বিদ্যুৎ না থাকায় ভ্যাপসা গরমে আর মশার উৎপাতে অতিষ্ঠ শিশুরা পড়াশোনা করতে পারছে না। অন্ধকারে এলাকায় অসাধু ব্যক্তিদের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় চুরিসহ বিভিন্ন আতঙ্কে রাত জাগতে হয় বাড়ির পুরুষদের। ভুক্তভোগী ফিরোজ ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, “আমরা অনেক কষ্টে জমানো টাকা দিয়ে আবেদনের ফি জমা দিয়েছি। কিন্তু আবাসিক প্রকৌশলী বলছেন আমাদের বাড়ি অনেক দূরে। অথচ কাছেই ‘বুলির বাড়ি’সহ আরও অনেক জায়গায় ৮০০ গজ দূর থেকেও সংযোগ দেওয়া হয়েছে। আমরা কি এদেশের নাগরিক না? আমরা কি কেবল গরিব বলেই আলো পাবো না?”এ বিষয়ে কোটচাঁদপুর আবাসিক প্রকৌশলী (আরই) সহিদুজ্জামান-এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন:”আমরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছি এবং গুরুত্ব সহকারে এটি যাচাই করছি। তবে তারা আমার নামে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহোদয়ের কাছে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে বলে জানতে পেরেছি। আমি তাদেরকে বার বার ডাকলেও তারা হাজির হচ্ছে না। তারপরেও বিষয়টি পুনরায় খতিয়ে দেখে যদি বিধিসম্মত হয়, তবে বিদ্যুৎ পৌঁছানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”অন্যদিকে, অসহায় পরিবারগুলোর আর্তনাদের বিষয়টি নিয়ে কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এনামুল হক-এর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে আবাসিক প্রকৌশলী সহিদুজ্জামান ইউএনও মহোদয়ের বরাত দিয়ে বলেন:”বিদ্যুৎ মানুষের মৌলিক অধিকার। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য প্রতিটি ঘরে আলো পৌঁছানো। বড় বামনদহের বাসিন্দারা যদি আবেদন করে থাকেন এবং বিধি মোতাবেক সব ঠিক থাকে, তবে তারা অবশ্যই বিদ্যুৎ পাবেন। যাতে অসহায় পরিবারগুলো দ্রুত এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি পায়, সে বিষয়ে আমরা সচেষ্ট থাকব।”ইতোমধ্যে ভুক্তভোগীরা ঝিনাইদহ নির্বাহী প্রকৌশলী (এক্সেন), স্থানীয় প্রেসক্লাব এবং উপজেলা প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। তাদের যৌক্তিক দাবি— যদি “বুলির বাসার” মতো অধিক দূরত্বে থেকেও অন্যরা বিদ্যুৎ সংযোগ পায়, তবে তারা মাত্র ১৫০ ফুট দূরত্বে থেকে কেন বঞ্চিত হবেন? অন্ধকার থেকে মুক্তি পেতে এবং কোমলমতি শিশুদের ভবিষ্যৎ রক্ষা করতে অতি দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদানের জন্য তারা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।