আবু সাইদ শওকত আলী,বিশেষ প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ‘দলিল লেখক কল্যাণ ফান্ড’-এর নামে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদের কাছে বুধবার লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ৩৬ জন সাধারণ দলিল লেখক।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, গত প্রায় ১৫ বছর ধরে একটি অবৈধ সমিতির নামে সিন্ডিকেট গড়ে তুলে অন্যায়ভাবে চাঁদাবাজি চালানো হয়েছে। এর ফলে জমি ক্রেতা-বিক্রেতারা চরম হয়রানির শিকার হয়েছেন এবং আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ৫ আগস্টের পর সমিতির কার্যক্রম না থাকলেও সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর হঠাৎ কয়েকজন দলিল লেখক নিজেদের আহ্বায়ক ও যুগ্ম আহ্বায়ক দাবি করে নতুন করে চাঁদাবাজি শুরু করেছেন। তারা ‘দলিল লেখক কল্যাণ ফান্ড’-এর নামে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অবৈধভাবে টাকা আদায়ের চেষ্টা করছেন।
দলিল লেখক আবু সাইদ মুক্তি জানান, সাধারণ দলিল লেখকদের মতামত ছাড়াই যুবদল নেতা ফারুক হোসেন ও আজিজুল লস্কর একতরফাভাবে একটি কমিটি গঠন করেছেন। পরবর্তীতে তারা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে একটি তালিকা পাঠিয়ে সরকারি ফি ছাড়াও অতিরিক্ত টাকা আদায়ের নির্দেশ দেন।
তালিকা অনুযায়ী, হেবা, পাওয়ার ও বণ্টননামা দলিলে শতকপ্রতি ৩ হাজার ৫০০ থেকে ১০ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া, সরকারি ফি বাদে ১ লাখ টাকা মূল্যের জমিতে ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং ১ কোটি টাকা মূল্যের জমিতে সর্বোচ্চ ৮৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায়ের কথা বলা হয়েছে।
অভিযোগকারীরা আরও বলেন, পূর্বে নাসির উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি দলিল লেখক সমিতির আড়ালে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। বর্তমানে নতুন করে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা চলছে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
দলিল লেখক আরিফ বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন এক ব্যক্তির অত্যাচারে অতিষ্ঠ ছিলাম। এখন আবার নতুন করে একই ধরনের প্রক্রিয়া শুরু করার চেষ্টা চলছে। আমরা কোনো সমিতি চাই না, কারণ এতে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”
আরেক দলিল লেখক ইখতিয়ার উদ্দিন বলেন, “আমরা দলিল করতে আসা মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নিতে চাই না এবং কোনো অবৈধ ফান্ডেও দিতে চাই না। এ কারণেই আমরা ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কথিত আহ্বায়ক ফারুক হোসেন বলেন, “যে তালিকার কথা বলা হচ্ছে সেটি সঠিক নয়। কেউ আমাদের নাম ব্যবহার করে ভুয়া তালিকা তৈরি করে ছড়াতে পারে। এ বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না।”
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, “কয়েকজন দলিল লেখক একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি যাচাই করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।