চুয়াডাঙ্গায় আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু হলো আম সংগ্রহ, বাগানজুড়ে উৎসবের আমেজ

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি:

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর চুয়াডাঙ্গায় শুরু হয়েছে চলতি মৌসুমের আম সংগ্রহ কার্যক্রম। নির্ধারিত সময় মেনে গাছ থেকে আম সংগ্রহ ও গুণগত মান বজায় রেখে বাজারজাত নিশ্চিত করতে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।

বুধবার (১৩ মে) দুপুরে চুয়াডাঙ্গা কৃষি বিভাগের আয়োজনে পৌর এলাকার আদর্শ মহিলা কলেজপাড়ার মহলদার আম্রকাননে আম সংগ্রহের উদ্বোধন করা হয়। গাছ থেকে আম পেড়ে সংগ্রহ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মিস লুৎফুন নাহার।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা আম ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস মহলদার। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা আম ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, সহ-সভাপতি আব্দুল করিম বিশ্বাস, জেলা বিপণন কর্মকর্তা শহিদুল ইসলামসহ আমচাষি ও ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা।

অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, “দেশের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা একটি আমসমৃদ্ধ জেলা। এ জেলার উৎপাদিত আমের স্বাদ ও সুখ্যাতি রয়েছে দেশজুড়ে। আমের সরবরাহ ও বাজারজাতকরণে যাতে কোনো সমস্যা না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসন সর্বদা তৎপর থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমের সুনাম ধরে রাখতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ‘ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার’ প্রস্তুত করা হয়েছে। ক্যালেন্ডার অনুযায়ী জাতভেদে আম সংগ্রহ শুরু হচ্ছে। কোনো অসাধু ব্যবসায়ী যাতে আমে ক্ষতিকর রাসায়নিক বা ফরমালিন ব্যবহার করতে না পারে, সে ব্যাপারে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এ বিষয়ে আমচাষি, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”

জেলা প্রশাসনের ঘোষিত ‘আম ক্যালেন্ডার’ অনুযায়ী, ১৩ মে থেকে আঁটি, গুটি, বোম্বাই, খিরসাপাত ও গোপালভোগ জাতের আম সংগ্রহ শুরু হয়েছে। আগামী ২০ মে থেকে হিমসাগর, ২৫ মে থেকে ল্যাংড়া, ৫ জুন থেকে আম্রপালি (বারি আম-৩), ১৫ জুন থেকে ফজলী, ২০ জুন থেকে হাঁড়িভাঙ্গা ও ব্যানানা, ৩০ জুন থেকে আশ্বিনা (বারি আম-৪) এবং ৫ জুলাই থেকে কার্টিমন ও গৌড়মতি (বারি আম-১২) জাতের আম সংগ্রহ করা যাবে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে চুয়াডাঙ্গার চার উপজেলায় কয়েক হাজার হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ফলন ভালো হয়েছে বলে আশা করছেন চাষিরা। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাইকাররা বাগান পরিদর্শন শুরু করেছেন।

উদ্বোধনের পরপরই বাগানজুড়ে শুরু হয় আম পাড়ার কর্মযজ্ঞ। চাষি ও শ্রমিকদের ব্যস্ততায় পুরো এলাকা প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে ওঠে। আম সংগ্রহকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। স্থানীয়দের আশা, এবার আমের ভালো ফলন ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হলে জেলার অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *