জীবননগর অফিস:
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার(১৭ মে) দুপুরে ইউনিয়নের ধোপাখালী মাঠপাড়া গ্রামে ‘মসলার উন্নত জাত ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্প’-এর আওতায় বাস্তবায়িত গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের প্রদর্শনী প্লটে এ মাঠ দিবসের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জীবননগর উপজেলা কৃষি অফিসার আলমগীর হোসেন।প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মাসুদ সরকার। বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মিঠুন চন্দ্র অধিকারী এবং উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা পাভেল রানা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সামাউল হোসেন,নুরুজ্জামান,ইয়াসিন আরাফাত,মোর্শেদ বিল্লাহ,ইসমোতারাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রায় দেড় শতাধিক কৃষক। অনুষ্ঠানে স্থানীয় কৃষকদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন,এসএমই কৃষক রাজেদুল ইসলাম,বাপ্পী হোসেন,আমিনুল সরদার ও আলী হোসেন। তারা গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষের লাভজনক দিক তুলে ধরে কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিবিদ মাসুদ সরকার বলেন,দেশে পেঁয়াজের আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বর্তমান সময়ে এটি কৃষকদের জন্য অত্যন্ত লাভজনক একটি অর্থকারী ফসলে পরিণত হয়েছে।তিনি প্রদর্শনী ক্ষেতটি দেখে বাম্পার ফলনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি আরও বলেন,আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিকল্পিত ভাবে পেঁয়াজ চাষ করলে কৃষকরা অধিক ফলনের পাশাপাশি অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হবেন।পরে তিনি উপস্থিত কৃষকদের বিভিন্ন কৃষি সমস্যা ও করণীয় বিষয়ে তাৎক্ষণিক পরামর্শ দেন এবং কৃষক বাপ্পী হোসেনের ১০ কাঠা জমিতে (প্রদর্শণী প্লট)গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ ক্ষেত পরিদর্শন করেন।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো:মোর্শেদ বিল্লাহের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে দেড় শতাধিক কৃষক-কৃষানি অংশগ্রহণ করেন। প্রদর্শনী প্লটে পেঁয়াজের আশাব্যঞ্জক ফলন দেখে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। আগামী মৌসুমে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষ সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেন অনেক কৃষক।