জীবননগর অফিস:
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার ব্যস্ততম শিয়ালমারী হাটে সরকার নির্ধারিত টোল বা খাজনার হারের চেয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগে হাটের ইজারাদারকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল আলম রাসেল এই অভিযান পরিচালনা করেন এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে এই জরিমানা আদায় করেন।
জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা জেলার অন্যতম প্রধান এই হাটে প্রতি বছরই ঈদের সময় কোরবানির পশুর বেচাকেনা জমে ওঠে। এই সুযোগে কিছু অসাধু ইজারাদার সরকার নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি টাকা আদায় করে আসছেন বলে অভিযোগ ছিল। এবারও তেমনই অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার(২১ মে) সকালে হাটে সরকার নির্ধারিত খাজনার তালিকা বা চার্ট টানিয়ে দেওয়া হয়। ইজারাদারকে সতর্ক করা হয় যেন তারা নির্দিষ্ট হারের বাইরে কোনো ধরনের অতিরিক্ত টাকা ক্রেতা-বিক্রেতাদের কাছ থেকে না নেন।
তবে সতর্কতা সত্ত্বেও বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর আসে যে, ইজারাদারের লোকজন প্রতি গরুর বিপরীতে সরকার নির্ধারিত হারের চেয়ে প্রায় ২০০ টাকা করে অতিরিক্ত খাজনা আদায় করছেন। এমন সংবাদের ভিত্তিতে ইউএনও মো. আশরাফুল আলম রাসেল সঙ্গীয় পুলিশ বাহিনী নিয়ে হাটে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানকালে সরেজমিনে তদন্ত করে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ইউএনও আশরাফুল আলম রাসেল জানান, ‘সকালে আমরা হাটে সরকার নির্ধারিত খাজনার চার্ট টাঙিয়ে দিয়েছিলাম এবং ইজারাদারকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছিল যেন তারা অনিয়ম না করে। কিন্তু বিকেলে আমরা নির্দিষ্ট সূত্র থেকে জানতে পারি যে, তারা গরুপ্রতি প্রায় ২০০ টাকা করে বেশি নিচ্ছে। অভিযান চালিয়ে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের প্রমাণ পাওয়ায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ইজারাদারকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সাধারণ মানুষ যাতে হাটে এসে হয়রানির শিকার না হন, সেজন্য প্রশাসনের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যতে একই ধরনের অনিয়ম বা সরকার নির্ধারিত হারের বাইরে টাকা আদায়ের প্রমাণ পাওয়া গেলে ইজারাদারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হবে এবং ইজারা বাতিলসহ প্রয়োজনে মামলা দেওয়া হবে।’
স্থানীয় বাজারের ক্রেতা ও বিক্রেতারা জানান, প্রতি বছরই ঈদের আগে শিয়ালমারী হাটে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের মহড়া চলে। সরকার যত কম খাজনা নির্ধারণ করুক না কেন, ইজারাদাররা ইচ্ছেমতো টাকা আদায় করেন। এতে করে ক্ষতিগ্রস্ত হন সাধারণ কৃষক ও পশু ব্যবসায়ীরা। তবে এবার প্রশাসনের এই হঠাৎ অভিযানে তারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী আব্দুল করিম বলেন, ‘আমরা অনেক দিন ধরেই অভিযোগ করে আসছিলাম যে, হাটে ইজারাদাররা বেআইনি টাকা আদায় করছে। আজকের এই অভিযানে আমরা খুব খুশি। যদি নিয়মিত এমন নজরদারি থাকে, তবে হাটে এ ধরনের অনিয়ম রোধ করা সম্ভব হবে এবং সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তিতে ব্যবসা করতে পারবে।’এদিকে রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে প্রশাসনের এধরনের সাহসি ভুমিকায় এলাকাবাসী সাধুবাদ জানিয়েছেন।
প্রসঙ্গত,দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের চুয়াডাঙ্গার বৃহত্তম পশুহাট জীবননগর উপজেলার শিয়ালমারী,যেখানে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ক্রেতা-বিক্রেতারা আসেন। কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে এই হাটে হাজার হাজার গরুর বেচাকেনা হয়। এই সুযোগে লাখ লাখ টাকার খাজনা আদায় করা হয়, যার একটি বড় অংশই অতিরিক্ত হিসেবে আদায় করা হতো বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। প্রশাসনের এই পদক্ষেপ অনিয়ম রোধে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।