মহেশপুরে কৃষকের ১শ’ কলার কাঁদি ও ফলন্ত গাছ কেটে নষ্ট, লক্ষাধিক টাকার ক্ষতির অভিযোগ

আবু সাইদ শওকত আলী,ঝিনাইদহ:-

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের খাঁ পুরন্দরপুর গ্রামে গভীর রাতে দুর্বৃত্তদের দ্বারা একটি কলা বাগানের প্রায় ১শ’ কলার কাঁদি ও ফলন্ত কলা গাছ কেটে নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মসলেম মৃধার লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মসলেম মৃধা উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের খাঁ পুরন্দরপুর গ্রামের লুথফর রহমান (লুতু) মৃধার ছেলে। তিনি জানান, গত ১৪ জুন (রোববার) গভীর রাতে পূর্বশত্রুতার জেরে কে বা কারা তার কলা বাগানে হামলা চালিয়ে প্রায় ১শ’ কলার কাঁদি ও ফলন্ত গাছ কেটে সাবাড় করে দেয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খাঁ পুরন্দরপুর মৌজার ৭৫৩ খতিয়ানের ৩৬২০ দাগে প্রায় ১ একর ১৪ শতক জমিতে গত দুই বছর ধরে দেশি সবরি ও চাঁপা জাতের কলা চাষ করে আসছিলেন মসলেম মৃধা। পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন স্থানে মাছ চাষের সঙ্গেও জড়িত। বর্তমানে তিনি পার্শ্ববর্তী চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলা শহরে নিজস্ব বাসভবনে বসবাস করেন।

মসলেম মৃধা জানান, সকালে তার ভাই কলা বিক্রির উদ্দেশ্যে বাগানে গিয়ে দেখতে পান দুর্বৃত্তরা অধিকাংশ কলার কাঁদি ও ফলন্ত গাছ কেটে নষ্ট করে দিয়েছে। পরে বিষয়টি তাকে জানানো হলে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত হন।

ঘটনার খবর পেয়ে ফতেপুর ইউনিয়নে কর্মরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা তানজিলা বেগম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের প্রতি সমবেদনা জানান।

এ বিষয়ে কৃষক মসলেম মৃধা মহেশপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে অবহিত করার পাশাপাশি ১৫ জুন মহেশপুর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

তিনি বলেন, “আমি প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই, ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রকৃত দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক। যাতে ভবিষ্যতে কোনো কৃষক এ ধরনের নাশকতার শিকার না হন।”

মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, “কৃষক মসলেম মৃধার লিখিত অভিযোগ আমরা গ্রহণ করেছি। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। কে বা কারা এ ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছে তা উদঘাটনে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। তদন্তে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি এলাকায় এ ধরনের ঘটনা যাতে পুনরায় না ঘটে সেজন্য পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *