জীবননগরে সেনা হেফাজতে নিহত বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান ডাবলু হত্যা মামলা: তদন্তে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে সিআইডির ডিআইজি

জীবননগর অফিস:
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে সেনা হেফাজতে নিহত জীবননগর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলু হত্যা মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সিআইডির খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ডিআইজি মোহাম্মদ হাসান বারী নূর।
সোমবার (২৯ জুন) বেলা আড়াইটার দিকে তাঁর নেতৃত্বে সিআইডির একটি প্রতিনিধিদল জীবননগরে এসে ডাবলুকে আটক করার স্থান, তাঁকে যেখানে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করে। এ সময় তদন্ত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ, প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলা এবং সম্ভাব্য আলামত যাচাই করা হয়।
পরিদর্শনকালে নিহত শামসুজ্জামান ডাবলুর পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জীবননগর পৌর বিএনপির সভাপতি শাহজাহান কবীর, সহসভাপতি তাজুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শফিউদ্দিন, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মঈন উদ্দীন ময়েন, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শাহজাহান মিয়াসহ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা।
উল্লেখ্য, গত ১২ জানুয়ারি রাতে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থিত নিজস্ব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘হাফিজা ফার্মেসি’ থেকে চুয়াডাঙ্গা সেনা ক্যাম্পের একটি দল শামসুজ্জামান ডাবলুকে (৫২) হেফাজতে নেয় বলে পরিবারের অভিযোগ। প্রায় দুই ঘণ্টা পর তাঁকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়।
ঘটনার পর ডাবলুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালের সামনে বিএনপির নেতাকর্মী ও স্বজনরা বিক্ষোভ করেন। পরদিন মরদেহের ময়নাতদন্ত চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে সম্পন্ন হয়।
ময়নাতদন্তে অংশ নেওয়া চিকিৎসক ডা. এহসানুল হক তন্ময় জানান, মরদেহের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে এবং সেগুলোর সঙ্গে সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখিত আঘাতের বর্ণনার মিল রয়েছে।
ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর, গত ১৯ জুন নিহতের স্ত্রী জেসমিন আক্তার আদালতে ৯ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় চুয়াডাঙ্গা আর্মি ক্যাম্পের তৎকালীন অধিনায়ক লে. কর্নেল ফাহাদকে এক নম্বর আসামি করা হয়েছে। এছাড়া ক্যাপ্টেন সৌমিকসহ আরও আটজনকে আসামি করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে মামলার বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি বাদীপক্ষ।
নিহতের স্ত্রী জেসমিন আক্তার বলেন, “আমার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমার তিনটি সন্তান বাবাকে হারিয়েছে। আমি এই হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা গণমাধ্যমের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে সিআইডির উচ্চপর্যায়ের এই ঘটনাস্থল পরিদর্শনকে তদন্তের অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে মনে করছেন স্থানীয়রা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *