কোটচাঁদপুর স্টেশন মাস্টারের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদসভা, আসামি গ্রেফতারে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

অপুদাস,ঝিনাইদহ :-
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর রেলওয়ে স্টেশনের কর্তব্যরত সহকারী স্টেশন মাস্টার মনিদেব দাসের ওপর হামলার ঘটনায় প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ  অনুষ্ঠিত হয়েছে।  ১১ জুলাই  শনিবার সকাল ১১টায় কোটচাঁদপুর রেলওয়ে স্টেশন চত্বরে বাংলাদেশ রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার ও কর্মচারী ইউনিয়ন (রেজি. নং-বি-১৬৯১)-এর উদ্যোগে এ প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। উল্লেখ্য যে, গত নয় জুলাই দুপুর দুইটার সময় এলাকার প্রভাবশালী আল আমিন নামে একব্যক্তি খাজনা আদায়ের নামে যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের সময়  কর্তব্যরত সহকারী স্টেশন মাস্টার মনিদেব দাস   প্রতিবাদ করলে  তার উপর নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে।  হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত আলামিন ও তানভীরকে অবিলম্বে গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভায় অংশ নেয়া রেলওয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ সময় সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি মির্জা কামরুল হক ও কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন সাদাত। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কোটচাঁদপুর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার  মোশারফ হোসেন এবং সঞ্চালনা করেন ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান। বক্তারা বলেন, সরকারি দায়িত্ব পালনরত একজন রেল কর্মকর্তার ওপর হামলা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর আঘাতের সামিল। তারা ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। সমাবেশ থেকে প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে বক্তারা বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা না হলে রেল কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মবিরতি, রেল চলাচল বন্ধসহ আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা দিতে বাধ্য হবেন। বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত আলামিন রেলওয়ের জমি অবৈধভাবে দখল করে একটি দোকান নির্মাণ করেছেন। তারা রেল কর্তৃপক্ষের কাছে ওই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদেরও জোর দাবি জানান। সমাবেশ শেষে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি স্টেশন এলাকা প্রদক্ষিণ করে। এ সময় তারা “কালো হাত ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও” এবং “মনিদেবের ওপর হামলা কেন, প্রশাসন জবাব চাই”সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আলামিন বলেন, তিনি পৌরসভার ইজারার ভিত্তিতে স্টেশন-সংলগ্ন বাজার থেকে খাজনা আদায় করেন। সহকারী স্টেশন মাস্টারের ওপর হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেন। 
অন্যদিকে আলামিনের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে সহকারী স্টেশন মাস্টার মনিদেব দাস বলেন, আলামিন অবৈধভাবে রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মের ভেতর যাত্রীদের কাছ থেকে খাজনা আদায় করতেন, যা রেলওয়ের আইনবহির্ভূত। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে অভিযোগ করা হলে ইউএনও উভয় পক্ষকে ডেকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, ওই ঘটনার জের ধরেই ডিউটিরত অবস্থায় আলআমিনের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ দল তার ওপর হামলা চালায়। মনিদেব দাস আরও বলেন, হামলাকারীরা তাকে ধাক্কাধাক্কি করে এবং ভিডিও ধারণ করতে বলে। তারা দাবি করেছিল তিনি যাত্রীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে টাকা আদায় করছেন। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ তারা দেখাতে পারেনি। এ ব্যাপারে  কথা হয় ওই দিন উপস্থিত দুইজন  রেলের  যাত্রী   রফিক উদ্দিন ও স্বপনের  সাথে, তারা জানান, আমরা কোটচাঁদপুর ফল বাজার থেকে অল্প কিছু মালামাল নিয়ে ট্রেনে যাতায়াত করি। ফল বাজারে খাজনা দিয়ে মাল ক্রয় করি। খাজনার রিসিট থাকা সত্ত্বেও স্টেশনে আসলে আলামিনকে অতিরিক্ত টাকা গুনতে হয়, টাকা  দিতে না চাইলে আলামিন মার মুখে আচরণ করে। সমাবেশে বক্তারা রেল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *